চট্টগ্রামের আদালত ‘সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। চাঁদা না পাওয়ায় এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের করা আবেদনের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিম এ আদেশ দেন।
হাটহাজারীর বড়দিঘির পাড় এলাকার জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে গত জুলাই মাসে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হলে ওই ব্যবসায়ী হাটহাজারী থানায় মামলা করেন। রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ। তিনি জানান, আদালতে শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
বুধবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ইমনকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। গত ২৯ জুলাই সকালে যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ইমনের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পরদিন তাঁকে আদালতে হাজির করে ফটিকছড়ি থানার একটি হত্যা ও একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হলে দুই মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন, অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবির জন্য বেশি ফোন করতেন ইমন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা ইমন দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন এবং কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। স্কুলজীবন থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল তাঁর। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতেন। পরে নগরের অক্সিজেন এলাকায় খালার বাসা থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিয়ে চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে খেলতেন এবং কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর মাধ্যমে তাঁর দলে যুক্ত হন ইমন। সাজ্জাদের আরেক সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইমন বড় সাজ্জাদের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হয়ে ওঠেন।




