এক মাস আগে অপহরণের শিকার হওয়া দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে অবশেষে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে অক্ষত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশু দুটি হলো শফিকুল ইসলাম (১৩) ও শহিদুল ইসলাম (১১)। তারা উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকার বাসিন্দা শাহ আলমের ছেলে।

গত ১০ জুলাই সকালে থাইংখালী দাখিল মাদ্রাসার সামনে থেকে নিখোঁজ হন তারা। প্রায় এক মাস পর নিজ সন্তানদের ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত বাবা শাহ আলম। তিনি জানান, ছেলেদের আর ফিরে পাবেন না বলে মনে হয়েছিল। পুরো এক মাস পরিবারটি কান্না, উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটিয়েছে। সেদিন সকালে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ছেলেরা নিখোঁজ হয়। পরে জানা যায়, তাদের অপহরণ করা হয়েছে। এরপর থেকে সন্তানদের খোঁজে তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন। অপহরণকারীরা কখনো মুক্তিপণ দাবি করত, আবার কখনো হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিত।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, কলাতলী এলাকা থেকে দুই শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অপহরণে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) আবদুল আজাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অপহরণের পর চক্রটি পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে। সর্বশেষ চার লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে দুই শিশুকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারীদের নজরদারিতে রাখছিল পুলিশ। গ্রেপ্তারের ভয়ে অপহরণকারীরা উখিয়া, টেকনাফসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এক পর্যায়ে টেকনাফের একটি নির্দিষ্ট স্থানে মুক্তিপণের বিনিময়ে শিশুদের ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় কলাতলীতে শিশুদের অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং সেখান থেকে মুক্তিপণ ছাড়াই তাদের উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ মনে করছে, গণমাধ্যমে এই অপহরণের খবর ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় অপহরণকারীরা ভীত হয়ে পড়েছিল এবং শিশুদের কোনো ক্ষতি করার সাহস পায়নি।