প্রায় এক দশক আগে রাজধানীর বংশালে সংঘটিত ছিনতাই পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের মামলার রায়ে এক আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অপর আসামির খালাস হয়েছে। বুধবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পীর আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন মাসুম মিয়া ওরফে কালু, আর খালাস পাওয়া আসামি মো. ইউনুস মিয়া। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাসেম রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের নভেম্বরের একটি ভোরে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে খাবার ও কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে রিকশায় করে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হন মুদি দোকানদার আবদুল কুদ্দুস। যাত্রাপথে বংশাল থানার সিদ্দিকবাজার এলাকায় পৌঁছালে দুই ব্যক্তি তাঁর রিকশা থামিয়ে মালামাল ও নগদ অর্থ দাবি করেন। কুদ্দুস তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছিনতাইকারীরা তাঁর বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে আদালত মাসুম মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। অপর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রায়ে মাসুম মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

ঘটনার পর নিহতের চাচাতো ভাই মো. কামাল হোসেন বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে প্রায় দুই মাস পর ওই থানার উপপরিদর্শক মো. শহীদুল ইসলাম দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ২০১৭ সালের ৭ মার্চ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির বিচারকার্য শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। বিচার চলাকালীন মাসুম মিয়া ঘটনার পর থেকেই কারাগারে ছিলেন; অন্যদিকে খালাস পাওয়া ইউনুস মিয়া প্রায় ৮ বছর ৪ মাস জেল খাটার পর মুক্তি পেলেন।