ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে এক বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে চলা ১৬ দিনের অনশন শেষ করেছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতো। রাজ্য সরকার বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে ওই পরীক্ষা বাতিলের সম্মতি দেওয়ায় তিনি অনশন ভাঙেন। তবে অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষায় কারচুপির অভিযোগে দেশটির শীর্ষ তদন্ত সংস্থা সিবিআই তদন্ত শুরু না করা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
গত সপ্তাহে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে রাজধানী রাঁচির একটি হাসপাতালে ভর্তি হন মাহতো। সেখানেই রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে তার অনশন ভঙ্গ হয়। গত ২৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা তখন সংস্কারের দাবিতে পথে নামে।
ভারতে সরকারি চাকরি অত্যন্ত কাক্সিক্ষত কারণ এটি আর্থিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। প্রতি বছর রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের এসব পরীক্ষায় অংশ নেয় লক্ষ লক্ষ মানুষ। বয়সসীমা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অনেকে কোচিং ক্লাসেও যান। কিন্তু প্রশ্নফাঁস ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে একাধিক পরীক্ষা বিতর্কের মুখে পড়েছে। যারা উত্তীর্ণ হন, তাদের জন্যও অনিশ্চয়তার শেষ নেই—নিয়োগ প্রক্রিয়া কখনও কখনও বছরের পর বছর টানতে থাকে।
ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনের সূত্রপাত গত মাসের প্রিলিমিনারি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর। কিছু প্রার্থী দাবি করেন, অনলাইনে শেয়ার করা উত্তরপত্রে দেখা গেছে, সফল প্রার্থীরা প্রত্যাশার চেয়ে কম প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন—যা কারচুপির সন্দেহ উসকে দেয়। এর আগে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ঘটে। ফলে ঝাড়খাড়ের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
কয়েক দিন আগে রাজ্য সরকার প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল করে এবং রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের দায়িত্ব দেয়। ইতিমধ্যে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। কিন্তু ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন-কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (জেএসএসসি-সিজিএল) পরীক্ষা বাতিল এবং সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় ছিলেন বিক্ষোভকারীরা। সোমবার রাতে সোরেন ঘোষণা দেন, এই পরীক্ষাও বাতিল করা হবে।
সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সিআইডির তদন্তে পরীক্ষার অনিয়ম সম্পর্কে “অনেক চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসছে”। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন উল্লেখ করে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। টেন্ডার পাওয়া বেসরকারি সংস্থা টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড (টিডিপিএল) পরিচালিত সব পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণাও দেন তিনি। ২০১৪ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত সব নিয়োগ পরীক্ষার তদন্তের কথা জানানো হয়েছে—তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়লে তখন যাঁরা উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, তাঁদের কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজ্যের পরীক্ষা পদ্ধতিতে সংস্কারের সুপারিশ করতে একটি কমিটিও গঠন করা হবে।
এই ঘোষণায় উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে। ২৫ জুলাই থেকে রাঁচির একটি স্টেডিয়ামে ক্যাম্প করে আছেন তাঁরা; সেখানে নাচ-গানে মেতে ওঠেন অনেকে। তবুও কেউ কেউ বলছেন, সিবিআই তদন্তের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। শিক্ষার্থী নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, “সেই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে যাচ্ছি না।”
ঝাড়খণ্ডে সোরেনের ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, কংগ্রেস ও অন্যান্য দলের জোট সরকার আন্দোলনের চাপে পড়েছে। রাজ্যে বিরোধী দল হিসেবে থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে আসছে। জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া সফল প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও খবরে বলা হচ্ছে।




