আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন দল লিকুদের পক্ষ থেকে তেল আবিবের কেন্দ্রীয় এলাকায় স্থাপন করা এক প্রচার বিলবোর্ড ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই বিলবোর্ডে স্থান পেয়েছে নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেমের ছবি। তাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী দল লিকুদের প্রতীক। বিলবোর্ডে লেখা, ‘তাঁরা চান নেতানিয়াহু হেরে যান...তাঁদের জিততে দেবেন না।’ রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিলবোর্ডের ছবি ও একটি ভিডিও পোস্ট করেন নেতানিয়াহু, যেখানে তিনি মামদানিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যা দেন।

গত জুলাইয়ে নেসেট ভেঙে দেওয়ার পর থেকে নেতানিয়াহু তাঁর উগ্র ডানপন্থী জোটকে টিকিয়ে রাখতে জোরালো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২৭ অক্টোবর দেশটিতে ভোটগ্রহণ হবে, যা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। এদিকে নিউইয়র্কের মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার পর থেকেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে সোচ্চার মামদানি। গত মাসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার বাকযুদ্ধ চরমে ওঠে। তিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী বলে অভিহিত করে বলেছিলেন, ‘তাঁর হেগে থাকা উচিত।’ এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মামদানি।

সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে গেলে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানান মামদানি। জবাবে নেতানিয়াহু অভিযোগ তোলেন, মামদানি তাঁর শহরে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছেন এবং বিদ্বেষ উসকে দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, মামদানির ঘনিষ্ঠ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি ঐতিহাসিক দ্বিদলীয় সমর্থন হুমকির মুখে পড়েছে, যা তাকে উদ্বিগ্ন করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে মামদানির জনপ্রিয়তা নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশি। অন্যদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ জরিপগুলোতেও নেতানিয়াহুর জোটের পিছিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।

নেতানিয়াহুর এই প্রচারণা চলছে এমন এক সময়ে, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে। সোমবার ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠক করলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইসরায়েলের অবস্থান, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। এদিকে নিজের ছবি ও বক্তব্য নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহারের বিষয়ে মামদানি এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ইসরায়েলের নির্বাচনে এবার নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান।