মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সোমবার একটি ফেডারেল আপিল আদালতে কিলমার আবরেগো গার্সিয়ার বিরুদ্ধে আনা মানব পাচারের অভিযোগগুলো পুনর্বহালের জন্য আবেদন জানিয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে একটি ফেডারেল আদালত গার্সিয়ার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলো খারিজ করে দিয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে গত বছর গার্সিয়াকে ভুলবশত এল সালভাদরে নির্বাসিত করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালতে দাখিল করা নথিতে ডিওজে দাবি করেছে যে, গার্সিয়ার বিরুদ্ধে বিচার চালানোর জন্য সরকারের কাছে স্পষ্ট 'সম্ভাব্য কারণ এবং একাধিক বৈধ ভিত্তি' রয়েছে। একইসাথে তারা যুক্তি দেখিয়েছে যে, আগের রায়টি অভিযোগ খারিজ করার ক্ষেত্রে 'সন্দেহজনক অনুমানের' উপর নির্ভর করেছিল।

এর আগে মে মাসে টেনেসির ফেডারেল বিচারক ওয়েভারলি ক্রেনশ তার রায়ে মন্তব্য করেছিলেন যে, এই মামলাটি 'প্রসিকিউশন ক্ষমতার অপব্যবহার' এবং 'প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্যের' প্রতিফলন। কারণ গার্সিয়া তার এল সালভাদরে নির্বাসনকে চ্যালেঞ্জ করে একটি মামলা করেছিলেন, যার জের ধরে এই অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাম্প্রতিক আবেদনে ডিওজে জানিয়েছে, আদালত গার্সিয়ার দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়ার পর তারা তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক তদন্ত নতুন করে শুরু করে। এর আগে তাকে নির্বাসিত করার পর এই তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সংস্থাটি আরও দাবি করেছে যে, মানব পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে 'নতুন প্রমাণের' ভিত্তিতে।

আবেদনপত্রে আরও বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি রবার্ট ম্যাকগুয়ার ২০২২ সালের একটি ট্রাফিক স্টপের মাধ্যমে শুরু হওয়া তদন্তের ভিত্তিতে গার্সিয়ার বিরুদ্ধে মামলা এনেছিলেন। ডিওজে জোর দিয়ে বলেছে যে, ম্যাকগুয়ারের নিজের গার্সিয়ার নির্বাসন মামলায় 'কোনো স্বার্থ ছিল না'।

আদালত গার্সিয়ার নির্বাসন বাতিলের পর দেশে তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বৈধ উদ্বেগের কারণেই তার বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে ডিওজে যুক্তি দেখিয়েছে। আপিলের নথিতে বিচার বিভাগ টেনেসির ফেডারেল বিচারকের সেই রায় বাতিলের জন্য আপিল আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যেখানে গার্সিয়ার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগগুলো খারিজ করা হয়েছিল।

বিচারক ক্রেনশ তার আগের রায়ে বলেছিলেন, "এই আদালতের সামনে উপস্থাপিত প্রমাণ দুঃখজনকভাবে প্রসিকিউশন ক্ষমতার একটি অপব্যবহারকে প্রতিফলিত করে। আদালত সহজে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ এখানে দেখায় যে, এল সালভাদরে তার নির্বাসনকে চ্যালেঞ্জ করা গার্সিয়ার সফল মামলাটি না থাকলে সরকার এই মামলা আনত না। নির্বাহী শাখা নভেম্বর ২০২২ সালের ট্রাফিক স্টপের তদন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল। গার্সিয়া তার অধিকার রক্ষায় সফল হওয়ার পরেই নির্বাহী শাখা সেই তদন্ত পুনরায় চালু করে।"