মার্কিন আদালতে দাখিল করা নথিতে ট্রাম্প প্রশাসন স্বীকার করেছে যে তারা ৭.৬ বিলিয়ন ডলারের ক্লিন এনার্জি প্রকল্পের অনুদান বাতিল করেছে শুধুমাত্র 'প্রাপক রাজ্যের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে'। এই স্বীকারোক্তি জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের পূর্বের বক্তব্যের বিপরীত, যারা দাবি করেছিলেন যে প্রকল্পগুলো দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে ব্যর্থ বা করদাতার অর্থের অপচয় হওয়ায় বাতিল করা হয়েছে। তবে আদালতে সরকারি আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যেসব রাজ্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে ভোট দিয়েছে—মোট ১৬টি রাজ্য—সেখানকার প্রকল্পগুলোই কেবল বাতিলের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
গত অক্টোবরে জ্বালানি বিভাগ ঘোষণা করেছিল যে ২২৩টি প্রকল্পের অধীনে ৩২১টি অনুদান বাতিল করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ছিল ব্যাটারি কারখানা নির্মাণ, হাইড্রোজেন প্রযুক্তি উন্নয়ন, বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকীকরণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ক্যাপচারের মতো প্রকল্প। হোয়াইট হাউসের বাজেট পরিচালক রাসেল ভট সোশ্যাল মিডিয়ায় এই কাটছাঁটকে 'বামপন্থীদের জলবায়ু এজেন্ডার অর্থায়ন বন্ধের পদক্ষেপ' হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। অন্যদিকে, জ্বালানি সচিব রাইট দাবি করেছিলেন যে এটি 'ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত' মাত্র।
তবে আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা জানান, অনুদান নির্বাচনের সময় 'গ্রান্টির ঠিকানা কোনো ডেমোক্র্যাট-ঝোঁকযুক্ত রাজ্যে (ব্লু স্টেট) কিনা' সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। এই স্বীকারোক্তির পর ডেমোক্র্যাট সাংসদরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ওহাইওর প্রতিনিধি মার্সি কাপটুর ও ওয়াশিংটনের সিনেটর প্যাটি মারে বলেন, 'প্রশাসন অবশেষে আদালতে স্বীকার করেছে যা দীর্ঘদিন ধরে স্পষ্ট ছিল: তারা প্রায় ৩০০টি সাশ্রয়ী জ্বালানি প্রকল্প বাতিল করেছে শুধুমাত্র এই কারণে যে ওই রাজ্যগুলো ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্টকে ভোট দেয়নি।' তারা একে 'আমেরিকাবিরোধী' ও 'ক্ষমতার দুর্নীতিগ্রস্ত অপব্যবহার' আখ্যা দিয়ে রিপাবলিকান সাংসদদের প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিতে আহ্বান জানান।
ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই, ইলিনয়, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিনেসোটা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, নিউ ইয়র্ক, অরেগন, ভার্মন্ট ও ওয়াশিংটন—এই ১৬টি রাজ্যের প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ দায়ের করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ ও অ্যালেক্স পাদিলা এবং প্রতিনিধি জো লফগ্রেনের নেতৃত্বে দুই ডজনের বেশি ডেমোক্র্যাট সাংসদ জ্বালানি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর জেনারেলের কাছে তদন্তের জন্য চিঠি দিয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ডিসেম্বরে বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্ত সংস্থা তদন্ত শুরু করে।
সিয়েরা ক্লাবের প্রধান প্রোগ্রাম অফিসার হলি বেন্ডার বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন 'বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব' নিয়ে জ্বালানি প্রকল্প বাতিল করেছে যা সর্বত্র মানুষের চাকরি, বায়ুদূষণ ও ক্রমবর্ধমান বিলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় জ্বালানি প্রকল্প নির্মাণ না করে বরং প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার অফশোর উইন্ড প্রকল্প বাতিল করে প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর আগে সেন্ট পল শহর ও ক্লিন এনার্জি গ্রুপের দায়ের করা পৃথক মামলায়ও সরকারি আইনজীবীরা স্বীকার করেছিলেন যে অনুদান নির্বাচনে 'গ্রান্টির ঠিকানা ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত রাজ্যে কিনা' বিষয়টি প্রভাব ফেলেছে। সর্বশেষ স্বীকারোক্তিটি 'ঠাকুর বনাম ট্রাম্প' মামলায় এসেছে, যেখানে ফেডারেল আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকারের বিপরীত প্রকল্প চিহ্নিত করতে বৈচিত্র্য, লিঙ্গ, ভ্যাকসিন দ্বিধা ও কোভিড-১৯-সংক্রান্ত কীওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল।




