আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে কোনো সামরিক অভিযান চালানো সিরিয়ার পক্ষে বর্তমানে রাজনৈতিক ও সামরিক উভয় দিক থেকেই কার্যকরী হবে না। দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর দেশটি মারাত্মক সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের শিকার হয়েছে, যা এই সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের একাধিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে, সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল নয়। দেশটির বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর বিরাজমান অবিশ্বাস এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের কারণে লেবাননের শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর মতো কোনো সামর্থ্য সিরিয়ার নেই। তারা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিরিয়ার সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন, বহির্বিশ্বে নতুন কোনো সংঘাতে জড়ানো নয়।
একজন বিশিষ্ট মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, 'সিরিয়া তার দীর্ঘ ও রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের পর সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসে জর্জরিত। লেবাননের শিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া তার জন্য সর্বশেষ প্রয়োজনীয় বিষয়।' তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতাই বাড়াবে না, বরং সিরিয়ার নিজস্ব পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকেও চরমভাবে ব্যাহত করবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামো এবং সেখানে হিজবুল্লাহর মতো শক্তিশালী শিয়াদের উপস্থিতি সিরিয়ার জন্য একটি সামরিক অভিযানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে। আন্তর্জাতিক মহলও এই অঞ্চলে কোনো নতুন সংঘাত দেখতে চায় না, যা সিরিয়ার জন্য কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে লেবাননে সিরিয়ার হস্তক্ষেপ কেবল সম্ভব নয়, বরং তা স্ব-পরাজয়ের দিকেও নিয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।




