ভারতের রাজ্যসভা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সদস্যপদ ত্যাগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও টালিউডের জনপ্রিয় মুখ কোয়েল মল্লিক। পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা সেরে তিনি সরাসরি চলে যান ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাসভবনে। এই আকস্মিক বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, কোয়েল মল্লিক শিগগিরই বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা ভারতের উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে দেখা করে কোয়েল মল্লিক তাঁর ইস্তফাপত্র হাতে তুলে দেন। এর আগে গত ১১ জুন তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র প্রেরণ করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। তখন তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, সশরীরে উপস্থিত হয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভায় পাঠান। ওই একই সময়ে রাজ্যসভার সদস্য হন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, সংগীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। কোয়েলের পিতা রণজিৎ মল্লিক বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একসময়ের প্রখ্যাত অভিনেতা।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। গত ৯ জুলাই তৃণমূলের আরও তিন রাজ্যসভা সদস্য— শুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক— দলবদল করে বিজেপিতে নাম লেখান। ওই দিনই বিজেপি আগামী রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য এই তিনজনকে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের ঘোষণা দেয়।

কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগের ফলে উচ্চকক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যসংখ্যা এখন নেমে দাঁড়িয়েছে ৯-এ। অন্যদিকে, যে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে কোয়েল সাক্ষাৎ করেছেন, সেই যাদবের হাত ধরেই ইতোপূর্বে তৃণমূলের লোকসভার ২৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জন দলত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়েছিলেন। এই এনসিপিআই ইতিমধ্যেই লোকসভায় পৃথকভাবে আসন বিন্যাসের জন্য স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২০ জুলাই শুরু হতে যাওয়া লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনের আগেই স্পিকার এই আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।