ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলেক্সেই ফেদোরভকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ড্রোনযুদ্ধের ক্ষেত্রে দক্ষতার জন্য পরিচিত ফেদোরভ তার স্বল্প সময়ের মেয়াদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। তাকে বরখাস্ত করার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করছেন, ফেদোরভের মতো একজন সফল ও স্বচ্ছ মন্ত্রীকে অপসারণ করা দেশের প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্কার ও দুর্নীতি দমনে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ থাকলেও, সেগুলো তদন্তের আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়াকে 'অবিবেচনাপ্রসূত' বলে অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ফেদোরভের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তের স্বার্থেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুদ্ধকালীন সময়ে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কৌশলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিক্ষোভের কারণে রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন সড়ক ও সরকারি ভবনের আশপাশের এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে।
ফেদোরভ তার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি সবসময় দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতেও ইউক্রেনের সেবায় কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী স্বিরিডেঙ্কো ফেদোরভের পদত্যাগ গ্রহণ করেন এবং নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব সাময়িকভাবে একজন সিনিয়র কর্মকর্তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
গত কয়েক মাসে ফেদোরভের নেতৃত্বে ইউক্রেনের ড্রোন ইউনিটগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। তার অপসারণকে অনেকে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টির একটি কারণ হিসেবেও দেখছেন। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর মধ্যে এই পদক্ষেপকে ঘিরে নানা গুঞ্জন ও অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।


