মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইরান সংঘাত উদ্বেগজনক মাত্রা নিয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাতে বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংস করে দেয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বিবৃতিতে বলেছে, তাদের মহাকাশ বাহিনী বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ড্রোন কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার, হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণকেন্দ্র এবং একটি পি-৮ বিমানের হ্যাঙ্গারে আঘাত হেনেছে। কুয়েতে থাকা মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটিতেও ‘বিধ্বংসী ড্রোন’ হামলা চালানো হয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যম দাবি করেছে।
এর আগে মার্কিন বাহিনী ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর এলাকায় একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে হামলা চালায়। এতে ওই কেন্দ্রের নিরাপত্তারক্ষীসহ একজন নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। স্থানীয় উপ-গভর্নর ওয়ালিওল্লাহ হায়াতি জানান, শনিবার ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা কমাতে ডজন ডজন লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার সাইট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন-সক্ষমতা এবং ছোট নৌকা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথে পরিবহন করা হতো। সম্প্রতি প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান প্রকট হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, হরমুজ প্রণালিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়নে ইরানের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে মার্কিন প্রশাসন আবারও নিরাপত্তাহীনতা ফিরিয়ে এনেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, গত কয়েক মাসে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমাতে ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গৃহীত সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই মার্কিন এই আগ্রাসনে ব্যর্থ হয়েছে।
পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানি বাহিনী বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান এবং ওমানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। আইআরজিসি এর আগে কুয়েতের আলী সালেম ও আহমাদ আল-জাবের ঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছিল। তেহরানের বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘গত রাতে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করেছি।’ সেন্টকম আরও জানিয়েছে, তারা এ অভিযানে প্রথমবারের মতো মার্কিন ফাইটার বিমান, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, একমুখী আত্মঘাতী ড্রোন ও একমুখী আত্মঘাতী সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করেছে। এর আগে তারা প্রায় ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছিল।
এদিকে ইরানের একাধিক প্রদেশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। হরমোজগান প্রদেশের জাস্ক, সিরিক, কেশম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাসে রাডার সাইট ও সামরিক স্থাপনায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। খুজেস্তানের ওমিদিয়েহ, মাহশাহর, বেহবাহান, দেজফুল ও আহভাজের আশপাশেও বিস্ফোরণ শোনা গেছে। সিস্তান-বেলুচিস্তানের চাবাহারের নিকটবর্তী এলাকা ও মারকাজি প্রদেশের খোন্দাব শহরে পানির শোধনাগারের কাছে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।


