বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনটিআরসিএর কাছ থেকে নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটিতে নেওয়ার যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তার মধ্যেই পাল্টা বিবৃতি ও অবস্থান নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট করেছেন, সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তার এই বক্তব্য সোমবার সন্ধ্যায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও শেয়ার করতে দেখা গেছে।
এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় গৃহীত এক কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের আইন অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যায়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী নিয়োগের সুপারিশ করা হবে না বলেও সেখানে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যয়িত শিক্ষকদের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সম্ভাবনার কথা বলা হলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
এই পরিস্থিতিতে রোববার রাতেই আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী। সোমবার বিকেলের পর থেকে চাকরিপ্রত্যাশী ও শিক্ষকদের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে এই নিয়োগ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এক পোস্টে বলেন, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দিলে সরকারকে বড় আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি এটিকে শিক্ষাব্যবস্থা দলীয়করণের ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেন।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে গেলে অতীতের মতো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব ও ঘুষ-বাণিজ্যের পুনরুত্থান ঘটবে। তারা এই উদ্যোগ বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছে। একই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনও বিবৃতি দিয়ে এনটিআরসিএকেই নিয়োগের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রয়োজন হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এবি পার্টির ছাত্রসংগঠন ছাত্রপক্ষ এক বিবৃতিতে এই উদ্যোগকে 'মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ ধ্বংসের পাঁয়তারা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, অর্থ ও তদবিরের ভিত্তিতে নিয়োগ হলে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাব্যবস্থা ভয়াবহ সংকটে পড়বে। এদিকে সমালোচনার জেরে রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়, শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং এ বিষয়ে অপতথ্য না ছড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে।




