ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে পুলিশের সাত সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ধারাবাহিকতায় ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকায় পুলিশ লাইনস মাঠের ড্রিল শেডে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর রাত আড়াইটা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। তারা পুলিশ সদস্যদের বিচার এবং কনসার্ট বন্ধসহ নানা দাবি তুলে ধরেন। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
জানা যায়, জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী সমাবেশ ও শোভাযাত্রা উপলক্ষে মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসেছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী। এ উপলক্ষে রাতে পুলিশ লাইনসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ডিআইজি ছাড়াও পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম রকীব উর রাজা, সদর থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ডিআইজি ও পুলিশ সুপার অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশ লাইনসের পশ্চিম পাশে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমান প্রতিষ্ঠিত দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার অবস্থান। অনুষ্ঠান চলাকালে উচ্চ শব্দে গানবাজনার অভিযোগ তুলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইনসে প্রবেশ করে অনুষ্ঠানস্থলের চেয়ার ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হন। আহত শিক্ষার্থীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ঘটনার পর পুলিশ লাইনসের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা, ফলে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা শিল্পীরা আটকা পড়েন। অন্যদিকে, শহরের পুরাতন জেলা রোড, কুমারশীল মোড় ও হাসপাতাল সড়কে রাত দুইটার দিকে বিক্ষোভ করেন আরেকটি দল। রাত আড়াইটার দিকে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে বিভিন্ন দাবি জানান। ঘটনার পরপরই দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসায় যান জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম। সেখানে পুলিশ ও মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি।
সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ভোর পর্যন্ত আলোচনা চলে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করা হবে। সভায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উন্মুক্ত কোনো কনসার্ট না করার দাবি জানানো হয়। পুলিশ জানায়, তারা তাদের দায়িত্ব নিজেরা পালন করবে, অন্য কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এরপর উভয় পক্ষ শান্ত হয়।
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল কনসার্ট বন্ধ, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও বরখাস্ত এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা। তিনি জানান, পুলিশ তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে এবং দায়িত্বে থাকা তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্তের কথা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, তিনি ঘটনা শুনেছেন এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশের ডিবি ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং রাত সোয়া ৯টার দিকে ডিআইজি ও এসপি চলে যান। রাত সাড়ে ১১টায় প্রধান ফটকের পকেট গেট দিয়ে ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী ঢুকে চেয়ার ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।




