ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়। বুধবার সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত প্রথম চব্বিশ ঘণ্টার হিসাব অনুযায়ী, এই প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির মাধ্যমে মোট ৪৪১টি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই মামলাগুলোর মধ্যে নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩৯৯টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি ভুল দিক থেকে গাড়ি চালানোর কারণে ২৯টি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে ১৩টি মামলা পরবর্তীতে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
কুমিল্লা অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার শাহীনুর আলম খান প্রথম আলোকে এই পরিসংখ্যানের সত্যতা যাচাই করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুসারে, নতুন এই ক্যামেরা ব্যবস্থার কারণে চালকদের মধ্যে সতর্কতার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, মহাসড়কে স্থাপিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা চাঁদাবাজি হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে তিনি তাঁর মতামত প্রকাশ করেছেন যে, প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে অনিয়ম কমিয়ে আনা সম্ভব।
শাহীনুর আলম খান আরও জানান, ক্যামেরা চালুর পর থেকেই গাড়িচালকরা সতর্ক হয়েছেন। এই কারণে পরবর্তী সময়ে মামলা দায়েরের হার কমে এসেছে। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ আরও দক্ষতার সঙ্গে চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই ক্যামেরায় তিন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করার সুবিধা রাখা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, বিপরীত দিকে যান চলাচল এবং অনুমোদনহীনভাবে পার্কিং। প্রথম এক দিনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, দায়েরকৃত মামলার বেশির ভাগই অতিরিক্ত গতির জন্য।
ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরার মাধ্যমে চিহ্নিত করা যায় এমন লঙ্ঘনের ধরন আরও বাড়ানো হতে পারে বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে তাঁর প্রত্যাশা।
এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে আইন ভঙ্গের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজতর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




