মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবারের একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গৃহীত হয়। একই ঘটনায় পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত আলমগীর হোসেন (২৮) নামের যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি উপজেলার কর্মকারকান্দি বয়ড়া গ্রামের বাসিন্দা। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন স্পষ্ট করেছেন যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমোদন ছাড়াই মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার কারণেই সোহেল রানার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল দুপুরে। বলড়া গ্রামের বাসিন্দা তায়েফ হোসেন (২০) মোটরসাইকেলে করে উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে বলড়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া এলাকায় এএসআই সোহেল রানা ও আলমগীর তাঁর যাত্রাপথে বাধা দেন। নিজেদের পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে তাঁরা প্রথমে মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন। পরবর্তী সময়ে তায়েফের শরীর তল্লাশি করা হয়। ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুসারে, তাঁর কাছে অবৈধ কোনো বস্তু আছে কি না জানতে চেয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর কাপড় খুলে তল্লাশি চালানো হয়। এই সময় তাঁর কাছ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা ও একটি মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ফোনটি ফেরত দেওয়া হলেও নগদ টাকা নিয়ে তাঁরা ইজিবাইকে চড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ঘটনার পর সন্দেহের বশে তায়েফ ও তাঁর বন্ধুরা তাঁদের অনুসরণ করতে থাকেন। হরুকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এএসআই সোহেল ও আলমগীরকে দেখতে পান। সেই মুহূর্তে এএসআই সোহেল মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত সরে যান। এদিকে স্থানীয় লোকজন আলমগীরকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর হোসেন দাবি করেন, এএসআই সোহেলের নির্দেশেই তিনি তায়েফের মোটরসাইকেল থামিয়েছিলেন এবং টাকা ও মুঠোফোন নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুঠোফোন ফেরত দেওয়া হলেও টাকা নিয়ে এএসআই চলে যান।

অপরদিকে, অভিযোগের বিষয়ে এএসআই সোহেল রানার বক্তব্য জানতে আজ বুধবার সকালে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন আরও জানিয়েছেন, আলমগীরের বিরুদ্ধে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। তবুও তাঁকে ১৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।