সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর আরোপিত উৎসে কর এখন আর চূড়ান্ত কর দায় নয় বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বছর শেষে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এই কর সমন্বয় করে ফেরত নেওয়ার পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এ সুযোগ নিতে প্রয়োজন যথাযথ দলিলপত্র, যার ব্যবস্থা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সঞ্চয়পত্রের অর্জিত মুনাফা থেকে কেটে রাখা উৎসে করের প্রত্যয়নপত্র জেলা সঞ্চয় অফিস, ব্যুরো ও বিশেষ ব্যুরো অফিস থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে। করদাতারা এসব অফিসে গিয়ে নিজ নিজ প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন, যা প্রমাণ করবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ উৎসে কর হিসেবে কর্তন করা হয়েছে।

একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করা যায়। কোনো করদাতার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর সারা বছরজুড়ে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম কর কাটা হলো। বছর শেষে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় দেখা গেল, বিভিন্ন করছাড়ের পর তার প্রকৃত কর দায় দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার টাকা। তাহলে তিনি বাকি ১০ হাজার টাকা ফেরত পাবেন। তবে ফেরত পেতে তাকে যথাযথভাবে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে, যেখানে ব্যাংক হিসাব নম্বর উল্লেখ করে ফেরতের আবেদন জানাতে হবে। কর কর্মকর্তারা দলিলপত্র যাচাই-বাছাই করে ১২০ দিনের মধ্যে টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা দেবেন।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন থাকা বাধ্যতামূলক। এ কারণে যাদের করযোগ্য আয় নেই কিন্তু ছোট ছোট সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ রয়েছে, তাদেরও টিআইএন সংগ্রহ করে রিটার্ন জমা দিয়ে কেটে রাখা কর ফেরত নিতে হবে। উল্লেখ্য, প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা বাড়তি করছাড় পাবেন। সারা বছর জুড়েই রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এদিকে আগামী ছয় মাসের (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) জন্য সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মধ্যবিত্ত পরিবারের নির্ভরতার বিষয়টি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এনবিআরের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হবে; তবে করদাতারা আর এটিকে চূড়ান্ত দায় হিসেবে না দেখে সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন, যা তাদের আর্থিক পরিকল্পনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।