ফিফার প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর আংশিক মালিকানা বা অংশীদারত্ব বিক্রির একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য সদস্য দেশগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২০ শতাংশ শেয়ার ছেড়ার এই প্রস্তাবে সায় দিতে বলা হয়েছে ২১১টি সদস্য রাষ্ট্রকে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস প্রথম এ বিষয়টি জনসমক্ষে আনে। পরবর্তীতে এএফপি, রয়টার্স ও দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট ইনফান্তিনোর পাঠানো এক চিঠির অনুলিপি পর্যালোচনা করে খবরটির সত্যতা প্রতিপাদন করে। সেই চিঠির তথ্য অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ইভেন্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট’ (এফএফই) নামে একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করবে, যার মূল্যমান ধরা হয়েছে ২ হাজার কোটি ডলার। এই প্রতিষ্ঠানটির ২০ শতাংশ শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের দায়িত্ব পাবে ‘থ্রাইভ ক্যাপিটাল’ নামক একটি বিনিয়োগ সংস্থা।
উল্লেখ্য, থ্রাইভ ক্যাপিটালের প্রধান জোশুয়া কুশনার হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সহোদর। ফিফা প্রত্যাশা করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেসরকারি খাত থেকে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার পুঁজি সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো পত্রে ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়, তাহলে ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ তহবিলের আওতায় প্রতিটি দেশ পাবে দুই কোটি ডলার।
পরিকল্পনায় সম্মতি প্রদানকারী দেশগুলো অতিরিক্ত আরও দুই কোটি ডলার এককালীন বোনাস হিসেবে লাভ করবে। এর মানে হলো, চার বছর মেয়াদি একটি চক্রে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র মোট চার কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা পাবে। শুধু তাই নয়, ২০৩৫ থেকে ২০৩৮ সালের মধ্যে এই সহায়তা বৃদ্ধি করে ২৪ কোটি ডলারে উন্নীত করার অঙ্গীকারও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রস্তাবটি পাস হলে ফিফার সদস্যদের জন্য মোট এক হাজার কোটি ডলারের একটি অর্থসহায়তা প্যাকেজ চালু হবে।
অন্যদিকে, প্রস্তাব নাকচ হলে চিত্রটি হবে সম্পূর্ণ বিপরীত। ইনফান্তিনো হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে সাহায্যের অঙ্ক আগের ন্যায় চার বছরের জন্য মাত্র ১ কোটি ডলারে নেমে আসবে এবং ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির অধীনে মোট বরাদ্দ দাঁড়াবে ২৭০ কোটি ডলারে। সুতরাং, প্রস্তাবে অসম্মতি জানালে প্রতিটি দেশ প্রায় ৩ কোটি ডলারের অর্থায়ন থেকে বঞ্ছিত হবে।
চিঠিতে ইনফান্তিনো উল্লেখ করেন, ফিফা সভাপতি হিসেবে ফুটবলকে রূপান্তরের মতো এক সুযোগ সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা তার কর্তব্য। তিনি বলেন, সায় থাকলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে এই হাজার কোটি ডলারের প্যাকেজ কার্যকর হবে, আর পুরনো কাঠামোই ধরে রাখতে চাইলে ২৭০ কোটি ডলারের বরাদ্দই বলবৎ থাকবে।
অনেক পিছিয়ে পড়া ও ক্ষুদ্র রাষ্ট্র তাদের জাতীয় দল পরিচালনা, একাডেমি, অবকাঠামো ও তৃণমূল ফুটবলের জন্য ফিফার অনুদানের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। আর ফিফার এই অর্থ উপার্জিত হয় বড় আসরগুলো থেকে। এই বাস্তবতার উদ্ধৃতি দিয়ে ইনফান্তিনো মন্তব্য করেন, ফিফা না থাকলে বিশ্বের ১৫০টি দেশে ফুটবলের অস্তিত্বই থাকত না। বিতর্কের মুখে ফিফার পক্ষ থেকে আরও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে যে এফএফই-এর মূল নিয়ন্ত্রণ ফিফার কাছেই থাকবে এবং খেলার পরিচালনা, আসর আয়োজন, বর্ষপঞ্জি প্রণয়ন ও ক্রীড়াসংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্তের সার্বভৌমত্ব তাদের হাতেই সমর্পিত থাকবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৭-২০৩১ মেয়াদে পুনরায় সভাপতি নির্বাচনে লড়ার পরিকল্পনা করছেন ইনফান্তিনো। ক্ষুদ্র দেশগুলোকে বিপুল অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে নির্বাচনে নিজের অবস্থান মজবুত করতেই এই চার কোটি ডলারের আকর্ষণীয় প্যাকেজটি সাজানো হয়েছে। সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে ৪৮টি দলের অংশগ্রহণও সেই কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে দলের সংখ্যা ৬৪-এ উন্নীত করার আভাসও তিনি দিয়েছেন।




