মানুষের প্রকৃত চরিত্র বোঝার জন্য কোনো বড় ঘটনার দিকে তাকিয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন জীবনের তুচ্ছ মনে হওয়া আচরণ, অন্যদের প্রতি ব্যবহারের ধরণ, বাকভঙ্গি কিংবা প্রতিশ্রুতি পালনের অভ্যাসই একজনের আসল ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। এই ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলোকে মনোবিজ্ঞানী এবং বর্তমান জেন-জি প্রজন্ম ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। একজন ভালো মানুষের মধ্যে এমন দশটি গুরুত্বপূর্ণ ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ বিদ্যমান থাকে।
প্রথম এবং প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সবার প্রতি সদয় হওয়া। মানবিক গুণাবলির মধ্যে দয়া সর্বশ্রেষ্ঠ। একজন মানুষ যদি ওয়েটার, নিচের পদে থাকা সহকর্মী, যানবাহনের চালক অথবা কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে ‘ধন্যবাদ’ জানাতে কার্পণ্য না করেন, তাহলে তিনি মূলত সদয় প্রকৃতির মানুষ। দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো, আপনার সাফল্যে আন্তরিকভাবে আনন্দিত হওয়া। ইতিবাচক মানুষরা অন্যের ভালো কিছু ঘটলে কুণ্ঠাবোধ করেন না। তাঁরা ঈর্ষা না করে বরং ছোট ছোট অর্জনও উদ্যাপন করেন। তাঁরা প্রতিযোগিতায় নামেন না, তুলনা টানেন না, এবং মুহূর্তটিকে নিজের দিকে টেনে নেওয়ার প্রচেষ্টাও করেন না।
তৃতীয় গ্রিন ফ্ল্যাগ হলো নিজের ভুল স্বীকার করা। ভুল স্বীকার করাকে দুর্বলতা নয়, বরং পরিপক্বতা ও আবেগগত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বলে গণ্য করা হয়। যিনি ভুল স্বীকার করেন, তিনি নিজের ব্যাপারে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন না; বরং নিজেকে সংশোধন করার আগ্রহ রাখেন। চতুর্থ গুণ হলো কথোপকথনে মনোযোগী থাকা। অন্যের কথা মন দিয়ে শোনা একটি অত্যন্ত মূল্যবান মানবীয় বৈশিষ্ট্য, যা বর্তমানে খুব কমই দেখা যায়।
পঞ্চম গ্রিন ফ্ল্যাগ হিসেবে নীরব মুহূর্তকে সম্মান জানানোকে ধরা হয়। প্রতিটি নিরবতার স্থান কথায় ভরিয়ে তোলা জরুরি নয়। যে ব্যক্তি বোঝেন যে কথা যদি নীরবতার চেয়েও সুন্দর না হয় তবে তা না বলাই ভালো, তিনিই ইতিবাচক। ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্য হলো প্রকৃতি আর প্রাণের প্রতি প্রেম। যে মানুষের আবেগগত বুদ্ধি বেশি, তিনি অকারণে একটি গাছের পাতাও ছিঁড়তে চান না বা ফুলও তোলেন না। গাছ কাটলে তারা মনে কষ্ট পান। তারা প্রকৃতি ও সব প্রাণীর প্রতি সমান অনুভূতি পোষণ করেন এবং অপচয় এড়িয়ে টেকসই জীবনযাপনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে থাকেন।
সপ্তম গ্রিন ফ্ল্যাগ হলো ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করা। সুস্থ মানসিকতার মানুষ খুব সহজেই ‘না’ শব্দটি মেনে নিতে পারেন। তিনি অন্যের ব্যক্তিগত পরিসীমা লঙ্ঘন করেন না এবং পারস্পরিক আস্থা ও মানসিক নিরাপত্তা তৈরিতে গুরুত্ব দেন। অষ্টম বৈশিষ্ট্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো ছোট ছোট প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। যাঁরা এই অভ্যাস রপ্ত করেন, তাঁরা বড় কোনো পরিস্থিতিতেও নির্ভরযোগ্য প্রমাণিত হন। এই ধারাবাহিকতা মজবুত সম্পর্ক গড়ার মূল ভিত।
নবম গ্রিন ফ্ল্যাগ অনুযায়ী, অন্যদের সম্পর্কে ভালো কথা বলার স্বভাব একজন মানুষকে সত্যিকারের ইতিবাচক করে তোলে। যাঁরা অহরহ পরনিন্দা বা গসিপ করে বেড়ান, তাঁরা মূলত চারপাশে নেতিবাচকতাই ছড়ান। আর দশম এবং শেষ বৈশিষ্ট্যটি হলো, আপনাকে দেখে আন্তরিকভাবে খুশি হওয়া। সত্যিকারের এই উচ্ছ্বাস অভিনয় করে দেখানো যায় না। যে মানুষ আপনাকে দেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনন্দিত হন, তিনি আপনাকে সত্যিই মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করাতে পারেন।
উল্লিখিত এই দশটি সেরা গ্রিন ফ্ল্যাগের মধ্যে যদি আপনার মধ্যে কমপক্ষে আটটি উপস্থিত থাকে, তবে আপনাকে ‘এ প্লাস ব্যক্তিত্বের’ অধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তথ্যটি ‘দ্য পাওয়ার অব টেন’ ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলের সূত্র থেকে গৃহীত।




