মার্কিন কবিতার জগতে এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর ডেনিস লিভারটভ। ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করলেও মার্কিন নাগরিকত্ব বেছে নেওয়া এই কবি বিশেষভাবে প্রভাবিত ছিলেন ‘ব্ল্যাক মাউন্টেন’ ও ‘ইমেজিস্ট’ কাব্যধারার মাধ্যমে। তাঁর রচনায় আধ্যাত্মিকতা ও তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এক অনন্য মেলবন্ধন রচনা করেছে।
কবিতার নির্মাণশৈলীতে লিভারটভ 'অর্গানিক ফর্ম' তত্ত্বে বিশ্বাসী ছিলেন, যেখানে কবিতার অন্তর্নিহিত ভাবই তার ছন্দ ও গঠন ঠিক করে দেয়। যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ এবং অস্তিত্বের সত্য উপলব্ধি ছিল তাঁর রচনার মূল প্রেরণা। দুই দশকের বেশি সময় ধরে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে 'হিয়ার অ্যান্ড নাউ', 'দ্য জেকবস ল্যাডার', 'সরো ড্যান্স' এবং 'ইভনিং ট্রেন' অন্যতম। তাঁর কবিতা পাঠককে এক অজানা আধ্যাত্মিক ভুবনে নিয়ে যায়।
সম্প্রতি এই কালোত্তীর্ণ কবির তিনটি রচনার বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা ভাষান্তর করেছেন রাব্বী আহমেদ। প্রথম কবিতাটি 'বিবাহ প্রসঙ্গে', যেখানে কবি দাম্পত্যশিকলের বন্ধনকে অস্বীকার করে এক মুক্ত মিলনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। কবিতায় মে মাসের সবুজ আলো এবং ডাউনটাউন পার্কে পাখিদের সঙ্গে নিবিড় এক সন্ধ্যার বর্ণনা দিয়ে বৈবাহিক বন্ধনের চেয়ে সহজ-প্রকৃতিগত সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছে।
দ্বিতীয় কবিতা 'বিয়ের যন্ত্রণা' যেখানে বৈবাহিক সম্পর্কের শারীরিক ও মানসিক পীড়াকে একটি প্রকাণ্ড তিমির উদরস্থ অবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। শেষ কবিতাটি 'আত্মার শুশ্রূষা', যেখানে একজন রাখালের অবিরাম শ্রম আর ধৈর্যকে কেন্দ্র করে আত্মার পালনের কথা বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, 'বিবাহ প্রসঙ্গে' কবিতাটি ১৯৬৩ সালে 'পোয়েট্রি' ম্যাগাজিনের অক্টোবর-নভেম্বর সংখ্যায় প্রথম ছাপা হয়।
ডেনিস লিভারটভ ছিলেন তাঁর সময়ের একজন সোচ্চার যুদ্ধবিরোধী কর্মী। নিগূঢ় পর্যবেক্ষণ আর তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক সচেতনতা তার লেখায় এমন এক জগৎ রচনা করে যা একইসঙ্গে শান্ত ও বৈপ্লবিক।




