প্রকৃতির অমূল্য উপহার হিসেবে বিবেচিত জাম্বুরা বর্তমানে বাজারে সহজলভ্য। যদিও বর্ষাকালে এর ফলন বেশি, তবুও এখনও এই ফল পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী পমেলো নামে পরিচিত এই ফলটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ ফ্রুট নামেও ডাকা হয়। বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে একে বাতাবিলেবু বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে জাম্বুরা আরও রসালো এবং হালকা গোলাপি থেকে লালচে আভাযুক্ত হয়ে থাকে।

নিয়মিত জাম্বুরা খাওয়ার ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। এতে থাকা ট্রিপটোফেন নামক উপাদান ভালো ঘুম হতেও সাহায্য করে, ফলে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস জাম্বুরার জুস পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলে প্রতি ১০০ গ্রামে ৩১.২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ২২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৩৫ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম, ১৮ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ৯ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ১৩ মিলিগ্রাম ফোলেট এবং ১.৬ গ্রাম ফাইবার রয়েছে।

জাম্বুরার স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক। প্রথমত, এতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দ্বিতীয়ত, এতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তৃতীয়ত, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে। চতুর্থত, ক্ষতস্থান দ্রুত সারাতে ভিটামিন সি কার্যকর ভূমিকা রাখে। পঞ্চমত, লিমোনেনেড নামক ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। ষষ্ঠত, ক্যারোটিন, ফোলিক অ্যাসিড ও পটাসিয়াম শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। সপ্তমত, রক্তাল্পতা কমাতে এবং রক্ত বৃদ্ধিতেও এই ফল উপকারী। অষ্টমত, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে। নবমত, গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করে। দশমত, পেশির দুর্বলতা ও ব্যথা কমাতে পটাসিয়ামযুক্ত জাম্বুরা কার্যকর। একাদশত, শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। দ্বাদশত, অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে এবং ত্বককে পেলব ও সুন্দর রাখে।

তবে কিডনি রোগীদের জন্য সতর্কতা জরুরি। উচ্চ মাত্রার পটাসিয়াম এবং নির্দিষ্ট ওষুধের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার কারণে কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে জাম্বুরা উপকারী, কারণ এতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড ক্যালসিয়ামকে আবদ্ধ করে শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত খাওয়া হলে পেট খারাপের সম্ভাবনাও থাকে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।