পাকিস্তানের ক্রিকেট কিংবদন্তি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাসের মেয়াদ এ সপ্তাহে তিন বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের নির্জন প্রকোষ্ঠে বন্দী 'কয়েদি নম্বর ৮০৪' খ্যাত এই নেতা সম্প্রতি লোকচক্ষুর সম্পূর্ণ আড়ালে রয়েছেন। বন্দিত্বকালে কেবল একটি ফাঁস হওয়া ছবিতেই তাকে দেখা গিয়েছিল, যা একটি অনলাইন আদালত শুনানির সময় ধারণ করা হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক মহল ও ইমরানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তাকে নীরবিচ্ছিন্নভাবে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। সরাসরি কোনো সংলাপ না হলেও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। একটি সূত্র মতে, পাকিস্তানের সামনের দিকে অগ্রসর হতে চলমান রাজনৈতিক মৃত্যভাব দূর করাই নয়।
ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। তার বয়স বর্তমানে ৭৩ বছর। চলতি বছরের শুরুতে চোখে অস্ত্রোপচারও করাতে হয় তাকে। কয়েক মাস আগে পরিবারের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তার, যার ফলে তার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতির বিষয়টি বারংবার উত্থাপন করেছেন ঘনিষ্ঠজন ও খেলোয়াড়ি জীবনের সহযোদ্ধারা। এমনকি, তার মৃত্যুরও ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ে।
ইমরানের দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিম খান দ্য অবজারভারকে এক যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, তাদের পক্ষে আর চুপ করে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ভাষায়, 'আমাদের বাবা সাত মাসের বেশি সময় ধরে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন। আমরা আশঙ্কা করছি এই দীর্ঘ একাকী কারাজীবনের কারণে তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছে। তার সাথে আমাদের কোনো স্বাধীন ও নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।'
ইমরানের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারিও জানিয়েছেন, তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে এবং তার জরুরি ভিত্তিতে উপযুক্ত চিকিৎসা দরকার। তিনি আরও বলেন, নির্মম এই সম্পূর্ণ নির্জন কারাবাসে নিজের বোন, পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতেরও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তার মতে, 'শাসকমণ্ডলে যদি ন্যূনতম দায়িত্ববোধ থাকে, তবে স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় ইমরান খানকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া উচিত।'
রাজনৈতিক এই অচল অবস্থানিরসনের একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে স্বাস্থ্যগত কারণেই ইমরান খানকে মুক্ত করার বিষয়টিকে সামনে আনা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অস্থিরতা পুরো দেশকেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে ফেলেছে বলে মত দিয়েছেন অভিজ্ঞ মহল। ২০২৩ সালে দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ইমরান খান তখন থেকে কারাবন্দী।




