মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান অস্থিরতা ও সংঘর্ষে ইরান এবং সেখানকার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে হতাহত শিশুর সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এ তথ্য জানানো হয়। ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক আবদুল ফোফানা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন।
সংস্থাটির ওয়েবসাইটে গত শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতির বরাতে জানা গেছে, ইরান ও তার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এখনো বিদ্যমান। এই পরিস্থিতির কারণে যেসব স্থান শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হওয়ার কথা—যেমন নিজগৃহ, বিদ্যাপীঠ ও নিজস্ব এলাকা—সেখানেই তারা প্রাণ হারাচ্ছে বা বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ছে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০ জুলাই ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি কেশম দ্বীপের একটি আবাসিক ভবনে মার্কিন হামলার ফল মা-বাবার সাথে মাত্র দুই বছর বয়সী এক শিশুর প্রাণহানি ঘটে। এতে আরও দুই শিশু আহত হয়েছে বলে বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়।
আবদুল ফোফানা তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো একটি কঠোর বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে—গোটা অঞ্চল জুড়েই শিশুরাই এই দ্বন্দ্বের ভয়াবহতম মূল্য পরিশোধ করছে। বিগত পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে অঞ্চলটির ছয়টি ভিন্ন রাষ্ট্রে চার হাজারের বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। এর মধ্যে একমাত্র ইরানেই প্রাণহানি ও জখমের সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি। বিবরণ অনুযায়ী, ইরানের ভূখণ্ডে এ পর্যন্ত ৩৮৬ জন শিশু নিহত এবং আরও ২ হাজার ১১৭ শিশু আহত হয়েছে।
শিশুদের এমন চরম দুর্ভোগকে কোনোমতেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইউনিসেফের এই কর্মকর্তা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত যাদের দ্বারা হয়নি এবং যা থামানোর সক্ষমতাও যাদের নেই, তারাই—অর্থাৎ শিশুরা—এতে সবচাইতে নির্মমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিবৃতির মাধ্যমে ইউনিসেফ মধ্যপ্রাচ্যের সকল বিবদমান পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে তাদের দায়বদ্ধতা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য তাগিদ দিয়েছে। সংস্থাটি একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে তা বাস্তবায়ন এবং অবিলম্বে সব ধরনের সহিংসতা স্থগিতের দাবি জানায়। একইসঙ্গে, শিশুদের অবস্থান যেখানেই হোক না কেন, তাদের জন্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।




