রাজধানী ঢাকার সাথে উত্তর এবং দক্ষিণাঞ্চলের রেল চলাচল আজ মঙ্গলবার সকালে সম্পূর্ণরূপে থমকে গেছে সিরাজগঞ্জে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে। রেলওয়ে ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ১০টা ৫৫ মিনিট নাগাদ সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে প্রবেশের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ট্রেনটির 'ঝ' চিহ্নিত বগিটি ওই সময় লাইন থেকে পিছলে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে শিকল টেনে গাড়ির গতি রোধ করা হলে একটি সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। তারপরও এই ঘটনার জেরে ঢাকার সাথে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রেলপথ সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়েছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার কবলে পড়া ট্রেনটির ১৪টি বগির মধ্যে চারটি বগি ও ইঞ্জিন দ্রুত অপসারণ করে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম সয়দাবাদ স্টেশনে সরিয়ে নেওয়া হয়। যমুনা সেতু পশ্চিম সয়দাবাদ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মণিরুজ্জামান জানান, অবশিষ্ট বগিগুলো টেনে জামতৈল স্টেশনের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এই পরিস্থিতিতে নীলসাগর ট্রেনটিও বর্তমানে স্টেশনটিতে আটকা রয়েছে।
লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধারের লক্ষ্যে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পাকশী বিভাগের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন নিশ্চিত করে জানান যে, সকাল ১১টা ২০ মিনিটেই একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঈশ্বরদী জংশন থেকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই উদ্ধারকাজ সমাপ্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সাথে তিনি এও জানান যে, এই দুর্ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে।
একটি সূত্র জানায়, উল্লাপাড়া স্টেশন এখন পর্যন্ত কোনো বিলম্বিত ট্রেনের চাপ প্রত্যক্ষ করেনি, কিন্তু ভিন্ন বেশ কয়েকটি স্টেশনে ট্রেন আটকে আছে। অপরদিকে, এই জরুরি পরিস্থিতিতে আটকে পড়া ট্রেন ও যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তা রক্ষায় সিরাজগঞ্জ স্টেশন বাজার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ইসরামের নেতৃত্বে রেলওয়ে পুলিশের একটি টিম তাৎক্ষণিক সেখানে সতর্ক অবস্থায় মোতায়েন করা হয়। কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, উদ্ধার তৎপরতা শেষ হওয়ার পরই শীঘ্রই রেল চলাচল পুনরায় সচল ও স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।


