পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় এই বছরের এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র নিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) কলেজের বাংলার প্রভাষক রিপন হোসেন।
স্থানীয় তথ্যমতে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরিচালিত পরীক্ষার মূল্যবনের জন্য প্রভাষক রিপনের নিকটেও একগুচ্ছ খাতা পৌঁছায়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, তিনি সেগুলো নিজে মূল্যায়ন না করে তার প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে এ কাজ করিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ওই শিক্ষার্থীরা মূলত দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে তাদের ভাষ্য, কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থানকালে রিপন হোসেন কেবল পরীক্ষার কোড নম্বর লেখার কাজে সহায়তা করতে বলেন।
ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবুল কালাম আজাদ স্পষ্ট করেন, যার ওপর মূল্যবনের দায়িত্ব বর্তানো হয়, শুধুমাত্র তিনিই তা সম্পাদনের অধিকারী। অন্য কোনও ব্যক্তি, এমনকি সহকর্মী শিক্ষকও এই কাজে অংশ নিতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের দিয়ে এরূপ কাজ করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে বিদ্যমান আইন অনুসরণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বিষয়টিকে পরীক্ষার উত্তরপত্র মুল্যায়নের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব বলে অভিহিত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত বাইরের কারও সম্পৃক্ততা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হয় না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে পুরো ব্যাপারটির তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সত্যতা পেলে দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
ভাইরাল ওই ভিডিওটি গত রোববারের। এতে স্পষ্ট দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজ কক্ষে বসে এইচএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন উত্তরপত্রে পরীক্ষা ও বিষয়ের কোড লিখছে। শিক্ষার্থী দের পাশেই বেঞ্চ ও চেয়ারের ওপর অনেক উত্তরপত্রের বাণ্ডিল রাখা ছিল।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রভাষক রিপো হোসেন বক্তব্য প্রদান করে সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, উত্তরপত্রগুলোতে কোড লেখার ঘর খালি রেখে তিনি সাময়িক ওয়াশরুমে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজ উদ্যোগে সেখানে কোড লিখতে শুরু করেছিল। ফিরে তিনি তক্ষুণি খাতাগুলো তাদের কাছ থেকে ফেরত নেন। কাউকেও এজন্য নির্দেশ বা অনুমতি দেওয়া হয়নি। কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ মানজুরের কাছেও তিনি একই ব্যাখা পেশ করেছেন।
রাঙ্গাবালী উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর নিশ্চিত করেছেন, বিষয়টি সরাসরি দেখতে আজ মঙ্গলবার কলেজ পরিদর্শন করা হবে। অভিযোগ সত্য হয়ে উঠলে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে জেলা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।




