একটি সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের পরিচিত ব্রাউন হান্টসম্যান মাকড়সাকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির মাকড়সা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির একদল গবেষক ২৫০টিরও অধিক প্রজাতির মাকড়সার দৌড়ের গতিবেগ পরিমাপ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। এই মাকড়সার সর্বোচ্চ গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩ দশমিক ৫৯ মিটার, যা ঘণ্টায় প্রায় ১৩ কিলোমিটারের সমতুল্য। এর আগে দ্রুততম মাকড়সার খেতাব ধরে ছিল মরক্কোর ফ্লিক-ফ্ল্যাক মাকড়সা, যার গতি ছিল প্রতি সেকেন্ডে ১ দশমিক ৭ মিটার। তবে ফ্লিক-ফ্ল্যাক মাকড়সা সাধারণ দৌড়ের পরিবর্তে শরীর উল্টিয়ে গড়িয়ে চলাচল করে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেন জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব গ্রাইফসভাল্ডের গবেষক জোনাস উলফ এবং তার সহকর্মীরা। তারা বিভিন্ন উৎস থেকে ১৬২টি ভিন্ন প্রজাতির মাকড়সা সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে অধিকাংশই লন্ডন ও গ্রাইফসভাল্ডের আশপাশ থেকে পাওয়া যায়। উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়াও সংগ্রহস্থলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষণায় বিশেষ ক্যামেরা ও খোপ কাটা কাগজ ব্যবহার করে মাকড়সাগুলোর গতি মাপা হয়। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব দ্য সানশাইন কোস্টের বায়োমেকানিক্স বিশেষজ্ঞ ড. ক্রিস্টোফার ক্লেমেন্তের ২০২১ সালের একটি গবেষণার তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়।
ড. ক্লেমেন্তে দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, তার মূল লক্ষ্য ছিল দ্রুততম মাকড়সা খুঁজে বের করা নয়, বরং বিভিন্ন আকারের প্রাণীর চলাফেরার পদ্ধতি বোঝা। তার মতে, মাকড়সারা কেবল পেশির মাধ্যমেই চলে না; তারা পা ভাঁজ করার জন্য পেশি ব্যবহার করে, তবে পা সোজা করে সামনে এগিয়ে দিতে শরীরের অভ্যন্তরীণ হাইড্রোলিক চাপ কাজে লাগায়। এটি অন্যান্য প্রাণীর চলন পদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। গবেষণার সময় ব্রাউন হান্টসম্যান মাকড়সাটি মাত্র এক মুহূর্তের জন্য প্রতি সেকেন্ড ৩.৫৯ মিটার গতি অর্জন করেছিল, তবে দীর্ঘ সময় ধরে এর গড় গতি ছিল প্রায় প্রতি সেকেন্ডে ২ মিটার, যা এখনও অত্যন্ত দ্রুত।
জোনাস উলফের ভাষ্য, মাকড়সার দৌড়ের গতি তার পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো, বিচরণক্ষেত্র এবং বাস্তুসংস্থানিক ভূমিকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সবচেয়ে বড় মাকড়সাগুলো সবচেয়ে দ্রুত নয়। শরীরের ওজন একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে পেশির কার্যক্ষমতা ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে গতি কমে যায়। ব্রাউন হান্টসম্যান মাকড়সা আকারে খুব বড় না, আবার খুব ছোটও না, যা তাকে আদর্শ গতির ভারসাম্য এনে দিয়েছে। তবে ড. উলফ স্বীকার করেছেন, পৃথিবীতে এর চেয়েও দ্রুততর কোনো হান্টসম্যান প্রজাতি থাকতে পারে যা এখনও পরীক্ষা করা হয়নি। এই মাকড়সা কেবল অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলেই দেখা যায় এবং এটি মানুষের হাতের সমান বড় হতে পারে। বিষ থাকলেও এটি সাধারণত মানুষকে কামড়ায় না, এবং কামড়ালেও তেমন গুরুতর প্রভাব পড়ে না।




