যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় দেশটির সামরিক শক্তি ও শীর্ষ কমান্ডারদের প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনিও ৯০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছেন। গত সপ্তাহে প্রয়াত বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় দেখা যায়নি মোজতবাকে। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানের আর কোনো নৌবাহিনী নেই, বিমানবাহিনী নেই—সব কিছু শেষ। তাদের বিমানবিধ্বংসী ব্যবস্থাও ধ্বংস হয়ে গেছে। সব নেতা নিহত হয়েছেন, সেরা কমান্ডারদের হত্যা করা হয়েছে। ট্রাম্প এ সময় প্রয়াত বিপ্লবী নেতা খোমেনির নাম ব্যবহার করলেও দৃশ্যত তিনি আলী খামেনিকেই বোঝাতে চেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রথম দিনেই তিনি নিহত হন। ট্রাম্প আরও জানান, তাঁর ছেলেও ৯০ শতাংশ শেষ। ওই হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ পরিবারের সদস্যরা নিহত হন এবং মোজতবা আলী খামেনি আহত হন বলে জানা যায়। আগ্রাসন শুরুর পর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। দীর্ঘদিনের এই অনুপস্থিতি তাঁর স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে জনগণের মধ্যে নানা জল্পনা সৃষ্টি করেছে।
সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনার পর ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এল। রোববার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন হামলা চালালে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আবার শুরু হয়েছে এবং তিনি বিভিন্ন নিশানায় একাধিক দফায় হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্যান্য জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘ফি’ আদায় করবে। এটি বিশ্বজুড়ে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের শত বছরের নীতির বিপরীত।
ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। উভয় দেশই এখন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে সেখানেও জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটছে। উল্লেখ্য, শান্তির সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।




