রাঙামাটির বনরূপা এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ বন বিভাগের কার্যালয়ের আঙিনা এখন বাদুড়ের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, বন বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে এসব প্রাণীর গভীর সখ্য গড়ে উঠেছে। কেউ এদের কোনো প্রকার উত্ত্যক্ত করে না বলেই বাদুড়গুলো নির্ভয়ে গাছের ডালে ঝুলে থাকে। কার্যালয়ের আঙিনায় আকাশমণি, বহেরা, তেলসুর, বাটিজাম, ঝাউগাছ, ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছে অসংখ্য বাদুড় দেখা যায়। অনেকগুলো নিশ্চল হয়ে ঝুলে থাকায় দূর থেকে দেখে মনে হয় সেগুলো গাছেরই অংশ। তবে কিছু বাদুড় ডানা ঝাপটিয়ে এডাল-ওডাল ঘুরে বেড়াচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দা মো. নবী বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এখানে বাদুড় দেখে আসছেন। মাগরিবের আজানের সময় এরা দলবেঁধে উড়ে যায় এবং রাতভর দূরদূরান্তে ঘুরে ভোর হওয়ার আগেই ফিরে আসে। দিনের বেলা কার্যালয়ে মানুষের প্রচণ্ড আনাগোনা ও যানবাহনের শব্দ থাকলেও বাদুড়গুলো তাতে বিচলিত হয় না। বন বিভাগের কর্মীরা সচেতনভাবে নজর রাখেন যেন কেউ বাদুড়দের বিরক্ত না করে বা ঢিল না ছোড়ে।দক্ষিণ বন বিভাগের জুরাছড়ি রেঞ্জার মো. আবদুল হামিদ জানান, কয়েক বছর আগে তিনি রাঙামাটি সদর রেঞ্জে কর্মরত থাকাকালে এখানে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার বাদুড় দেখতে পেতেন। বন কর্মকর্তারা আরও বলেন, এই বাদুড়গুলো রাতে দূরদূরান্তে উড়ে গিয়ে ফল খেয়ে বীজ পাহাড়ে ছড়িয়ে দেয়, যা প্রাকৃতিক বনায়নে সহায়তা করে। এছাড়া ক্ষতিকর মশা, মাছি ও পোকামাকড় খেয়ে এবং ফুল-ফলের পরাগায়ন ঘটিয়ে পাহাড়ি বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘ ১২ বছরের বেশি সময় ধরে কোলাহলের মধ্যেও এই বাদুড়গুলো বন বিভাগের আঙিনায় বসবাস করে আসছে। সন্ধ্যা নামলেই তাদের ওড়াউড়ি বাড়তে দেখা যায়, যা এলাকার একটি প্রাকৃতিক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।
রাঙামাটি বন বিভাগের আঙিনায় বাদুড়ের নিরাপদ আবাস, সৃষ্টি করেছে অনন্য দৃশ্য
রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের কার্যালয়ের আঙিনায় প্রায় ১২ বছর ধরে হাজার হাজার বাদুড় নিরাপদে বসবাস করছে। বন কর্মকর্তারা বলছেন, বাদুড়গুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।




