বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ জ্যোতির্বিদ্যা ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা 'জেডডব্লিউও অ্যাস্ট্রোনমি ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার'-এর ১৬তম আসরের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে ১০টি অসাধারণ ছবি প্রকাশ করেছে রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনউইচ। এ বছর ৬৬টি দেশের পেশাদার ও শৌখিন আলোকচিত্রী প্রায় ৪ হাজার ছবি জমা দিয়েছেন। বিজয়ীদের নাম ঘোষণা হবে ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। এর পরদিন থেকে লন্ডনের ন্যাশনাল মেরিটাইম মিউজিয়ামে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে নির্বাচিত ছবিগুলো।

প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতে ধূমকেতু সি/২০২৫ এ৬ (লেমন)-এর অসাধারণ দৃশ্য। আলোকচিত্রী জ্যাকব সাহনার টানা চার ঘণ্টা হেঁটে পাহাড়চূড়ায় পৌঁছে ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগে এই ছবি তোলেন। ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারের পেছনে সুপারমুনের ছবি তুলেছেন মার্টিন জিরাউড। তিনি অ্যাপের সাহায্যে জেনেছিলেন ২০২৬ সালের প্রথম পূর্ণিমার চাঁদ আইফেল টাওয়ারের ঠিক পেছন দিয়ে উঠবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের সিয়াটল শহরে গ্রীষ্মের সূর্যাস্তের সময় সোনালি চন্দ্রোদয়ের ছবি তুলেছেন এজে স্মাডি। চীনের আলোকচিত্রী চুহং ইউ ও জুওমিং ওয়াং অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথের কেন্দ্রস্থল ব্ল্যাকহোলের দিকে ধাবিত লাল গ্যাস ও ধূলিকণার ঘূর্ণি এবং বাইরের নীল নক্ষত্রের ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। ইংল্যান্ডের রিচার্ড অ্যাডিস 'শ্যাডো মুন' শিরোনামে চাঁদের ১৪ দিনের বিবর্তনকে একটি ফ্রেমে ধারণ করেছেন।

১৪ বছর বয়সী তরুণ আলোকচিত্রী ও চেন লিন তার বাড়ির ছাদ থেকে সূর্যের ক্রোমোস্ফিয়ার স্তরের ছবি তোলে, যেখানে সানস্পট, সৌরশিখা ও ফিলামেন্ট স্পষ্ট। ছবিটি জুনিয়র বিভাগে স্থান পেয়েছে। জেমস ম্যাকবিথ বসন্তের এক সকালে স্থানীয় পার্কে মেঘের আড়ালে আংশিক সূর্যগ্রহণের ছবি তোলেন। নরওয়ের জুলিয়েন ক্যাডেন সেনজা দ্বীপের 'ডেভিলস টিথ' পাহাড়ের ওপারে অরোরার ছবি তোলেন, যা হঠাৎ জ্বলে ওঠে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

চিলির হামবার্ট সেড্রিক প্রায় ৬৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত হেলিক্স নেবুলার ছবি তুলেছেন, যা একটি মৃত নক্ষত্রের অবশেষ। চীনের ইজিং ঝু ও শিংহান ইয়াং 'মহাজাগতিক প্রতিবেশী' শিরোনামে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে থাকা বোডস গ্যালাক্সি (এম৮১) ও সিগার গ্যালাক্সির (এম৮২) পাশাপাশি ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন।