জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এক চোখের দৃষ্টি হারানো বেলাল হোসেন প্রামাণিক (৩৯) ভাতা বিতরণে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বগুড়ার সারিয়াকান্দি এলাকার বাসিন্দা বেলাল সরকারি তালিকায় ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত, যা থেকে তিনি মাসে ১৫ হাজার টাকা পাচ্ছেন। কিন্তু তাঁর আহত হওয়ার ধরন অনুযায়ী ‘ক’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা। এই অসঙ্গতি সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বগুড়ার নিউমার্কেট এলাকায় মিছিলের সামনে পড়ে গেলে ডান চোখে গুলি লাগে বেলালের। প্রচণ্ড ব্যথা ও পুলিশের ভয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যান এবং স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সাত-আট দিন পর অবস্থার অবনতি হলে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান, যেখানে চিকিৎসক জানান চোখটি আর ঠিক হবে না। পরে ঢাকায় চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও দৃষ্টি ফেরেনি।

বেলাল জানান, তিনি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে কোনো সহায়তা পাননি। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে দুই লাখ টাকা ও জেলা প্রশাসন থেকে এক লাখ টাকা পেয়েছেন। ফাউন্ডেশনের সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) কামাল আকবর জানান, তহবিল সংকটের কারণে সম্পূর্ণ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফাউন্ডেশনের ৩৮৩ কোটি টাকার প্রয়োজনের বিপরীতে অন্তর্বর্তী সরকার মাত্র ১০০ কোটি টাকা দিয়েছিল। বর্তমানে পাঁচ মাস ধরে কর্মীদের বেতন দেওয়া যাচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বেলালের পরিবারে স্ত্রী শাহিদা আক্তার ও তিন সন্তান রয়েছে। তিনি আগে ভ্যানচালিয়ে মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করতেন। এখন শুধু সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। নিয়মিত ওষুধ খেতে হচ্ছে তাঁকে। তবে তিনি বলেন, ‘বাঁচিয়া আছি এইটাই বিরাট ব্যাপার। একটা চোখ নষ্ট, আরেকটা তো আছে।’

সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ৮৬৫ জনকে ‘জুলাই শহীদ’ এবং আহত ১৫ হাজার ৯০৩ জনকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ‘ক’ শ্রেণিতে অতি গুরুতর আহত, ‘খ’ শ্রেণিতে গুরুতর আহত ও ‘গ’ শ্রেণিতে সাধারণ আহত ব্যক্তিদের রাখা হয়। বেলালের মতো আংশিক দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের ‘ক’ শ্রেণিতে রাখার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি।