সম্প্রতি গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে অভিনয় ছেড়ে দিচ্ছেন হাসান মাসুদ। তবে প্রথম আলোর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, এ খবরটি সঠিক নয়। তাঁর ভাষ্যমতে, করোনা মহামারির সময় কাজের পরিমাণ কমে যায় এবং পরবর্তীতে তেমন ভালো চরিত্রের অফার পাননি, ফলে কিছুটা দূরে ছিলেন। কথাটি ভুলভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংগীত দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হলেও পরে নিয়মিতভাবে গানে যুক্ত হননি কেন, এমন প্রশ্নে হাসান মাসুদ বলেন, এক সময় সংগীতাঙ্গনে তার পরিচিতি ছিল। শুধু গান নিয়েই থাকলে হয়তো এ প্রজন্মের একজন স্বীকৃত গায়ক হতে পারতেন। কিন্তু সেনাবাহিনীতে চাকরিতে যোগদানের কারণে গান থেকে সরে আসতে হয়। সেনাবাহিনীতে তার ডাকনাম ছিল 'জন হেনরি' — এমন জানিয়ে তিনি বলেন, 'নাম তার ছিল জন হেনরি' শিরোনামের একটি গান গাইতেন তিনি। হাসান মাসুদ নামে একাধিক ব্যক্তি থাকায় এই ডাকনামটি তার জন্য ব্যবহৃত হতো।
চাকরি বেছে নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাবার অবসরের কথা সামনে রেখে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ পান। দীর্ঘদিন উদীচীতে কাজ করার পর ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। একদিন সেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে পরের দিনই আবেদন করেন এবং ভাগ্যক্রমে চাকরিটি পান। তবে এর ফলে গানের ক্যারিয়ারে ছেদ পড়ে।
'ব্যাচেলর' সিনেমায় 'আজকে না হয় ভালোবাসো, আর কোনো দিন নয়' গানটি রেকর্ডিং করা হলেও তা কেন বাদ পড়ল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, গানটি মূলত 'মিন্টু আমার নাম' সিনেমার জন্য খুরশীদ আলম গেয়েছিলেন। সেটি তারা মজা করে রেকর্ড করেছিলেন, কিন্তু এডিটিংয়ের সময় সিনেমার দৈর্ঘ্য কমাতে গিয়ে গানটি বাদ পড়ে যায়। এ ঘটনায় তার মন খারাপ ছিল।
'ব্যাচেলর' সিনেমার প্রিমিয়ারে শিল্পী-কলাকুশলীদের সাথে তাকে বসতে না দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও বলেন এই অভিনেতা। বলাকা সিনেমা হলে প্রিমিয়ারে তিনি পরিবার নিয়ে গেলে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কেউ তাকে চিনতে পারেনি। ফলে ওপর তলায় বসতে হয়। সিনেমা শেষে চাষী নজরুল ইসলাম তার অভিনয়ের প্রশংসা করে জানতে চান তিনি কোথায়। পরে সরয়ার ফারুকী ফোন করলে তিনি অভিমান করে নিচে নামতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের লোকজন এসে ক্ষমা চাইলে তিনি নিচে যান এবং স্বাগত বক্তব্য দিয়ে আবার ওপরের দিকে চলে যান।
২০০৪ সালে পাকিস্তান সফরের একটি ঘটনাও তুলে ধরেন হাসান মাসুদ। ওই সময় ভারতীয় ক্রিকেট দল পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল। সাংবাদিকদের সাথে তার পরিচয় ছিল এবং তিনি তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদও করতেন। এক করাচি সাংবাদিক তাকে 'ভাই' বলে সম্বোধন করলে তিনি জবাবে বলেন, তারা কখনোই ভাই ছিলেন না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সাথে যা ঘটেছে, তা ভাইয়ের সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেয় না। এরপর থেকে পাকিস্তানের সাংবাদিকরা তার সাথে সতর্কভাবে কথা বলত।
বর্তমানে শুটিং না থাকায় কীভাবে সময় কাটান, জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়মিত সিনেমা দেখেন, আড্ডা দেন এবং পরিবারের সাথে সময় কাটান।




