চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিকাঠামো খাতে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিন বিধিনিষেধের কারণে দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এনভিডিয়ার উন্নত চিপের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সিলিকন সমাধানের দিকে ঝুঁকছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের এক জরিপে এই প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া চীনা নির্বাহীরা জানিয়েছেন, আগামী ১২ মাসের মধ্যে তাঁরা এআই এক্সিলারেটর বাজেটের ৪৬ শতাংশ দেশীয় পণ্যে বরাদ্দ করতে চান। বর্তমানে এই হার ৩০ শতাংশ। একইসঙ্গে ৮০ শতাংশ নির্বাহী মতে, চলতি বছরে এআই প্রকল্পের উচ্চ ব্যয়ের কারণে তাদের মোট পরিকাঠামো ব্যয় বাজেটের চেয়ে বেশি হচ্ছে। এই জরিপটি দেশটির সফটওয়্যার, অর্থ, উৎপাদন ও খুচরা খাতের ৬০ জন নির্বাহীর ওপর পরিচালিত হয়।

নতুন এই বাজার পরিস্থিতিতে চীনের শীর্ষ এআই অবকাঠামো নির্মাতা টেনসেন্ট, আলিবাবা এবং হুয়াওয়ে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এছাড়া হাইগন ইনফরমেশন টেকনোলজি ও ক্যামব্রিকন টেকনোলজিসের তৈরি চিপগুলোও জরিপে অংশ নেওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানের বিবেচনায় রয়েছে। জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশি সেমিকন্ডাক্টরের স্থানে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের এই উদ্যোগ অগ্রগতি অর্জন করছে, যা হুয়াওয়ে ও হাইগনের মতো দেশীয় ব্র্যান্ডের জন্য লাভজনক হবে।

এনভিডিয়ার পণ্য এখনও চীনে জনপ্রিয় হলেও প্রতিবেদনে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বাজার অংশীদারত্ব হ্রাস পাবে। কারণ, চীন সরকার তার প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে এনভিডিয়ার বিশেষ ধরনের H20 চিপ ব্যবহার না করতে বলেছে এবং এই চিপের সহজলভ্যতাও কমছে। ফলে স্থানীয় প্রতিযোগীরা ধীরে ধীরে এনভিডিয়ার জায়গা দখল করবে।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীন সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ২৯৪ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা থেকে নাগরিক পরিষেবা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্লুমবার্গ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের অধীনে চিপের মতো মূল প্রযুক্তির অন্তত ৮০ শতাংশ দেশীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে।

তবে বৈশ্বিক মেমোরি চিপের সংকট চীনের এআই খাতের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি সীমিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চাংসিন মেমোরি টেকনোলজিসের মতো উচ্চ-ব্যান্ডউইথ মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, এখন চীনের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো কেবলমাত্র কম্পিউটিং শক্তির জোগান নয়, বরং দ্রুত তথ্য স্থানান্তরে সক্ষম উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি চিপের সরবরাহ নিশ্চিত করা।