যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এলাকাগুলোর একটি উইলিয়ামসবার্গে নিজেদের অফিস স্থাপন করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিলা। এই কোম্পানির কর্মীরা চাইলে অফিসের খুব কাছাকাছি বসবাসের জন্য প্রতি বছর ১৮ হাজার ডলার করে আবাসন ভাতা পেতে পারেন। পুরো প্রতিষ্ঠানের জন্য এই খাতে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়ায় ১৭ লাখ ডলার। কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী সেবাস্তিয়ান জিমেনেজ জানিয়েছেন, তারা কর্মীদের প্রশ্রয় দিতে চান না, বরং তাদের কাজের প্রবাহে রাখতে চান। ব্যবসায়িক সংবাদমাধ্যম ফরচুনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অনেক কোম্পানি যে সব সুবিধা দেয় তা কর্মীদের বিভ্রান্ত করে। তারা নিজেদের জিজ্ঞেস করেন, এটি কি কাউকে কাজের ধারায় থাকতে সাহায্য করবে? সে কারণেই তারা তিন বেলার খাবার, সনা ও কোল্ড প্লাঞ্জসহ জিম নির্মাণ এবং অফিসের ১০ মিনিটের সাইকেল চালানোর দূরত্বে থাকলে ১৮ হাজার ডলারের আবাসন ভাতা দিচ্ছেন।

বর্তমানে রিলায় প্রায় ১২০ জন কর্মী কাজ করেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই এই আবাসন ভাতা গ্রহণ করছেন। এটি একটি ঐচ্ছিক সুবিধা। জিমেনেজের মতে, যাতায়াতের ঝামেলা দূর করতে পারলে কর্মীরা কাজে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন। তিনি বলেন, যাতায়াত মানুষের দিনের সবচেয়ে বিরক্তিকর অংশগুলোর একটি। কেউ যদি ১২ ঘণ্টা কাজ করে, আট ঘণ্টা ঘুমায় এবং এক ঘণ্টা ব্যায়াম করে, তাহলে তার খুব বেশি অবসর সময় থাকে না। তিনি চান, কর্মীরা সেই সময় পরিবারের সঙ্গে কাটাক, পড়াশোনা করুক বা সাবওয়েতে বসে সময় নষ্ট না করে অর্থপূর্ণ কিছু করুক।

রিলা তাদের কর্মীদের জন্য সপ্তাহে ছয় দিন, দিনে ১২ ঘণ্টার কাজের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। কোম্পানির সংস্কৃতিকে 'অবিশ্বাস্যভাবে কঠোর' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। জিমেনেজ জানান, তারা যাদের নিয়োগ দেন—যেমন ডিভিশন ওয়ান অ্যাথলেট, উদ্যোক্তা এবং উচ্চ অর্জনকারীরা—তারা স্বাভাবিকভাবেই এই তীব্র পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। কর্মীদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সে রাখতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জো অ্যালেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি স্বাস্থ্যকর ভবনের বিশেষজ্ঞ। তিনি অফিসের বায়ুচলাচল ব্যবস্থা নির্বাচনে সহায়তা করেছেন যাতে জ্ঞানীয় কর্মক্ষমতা উন্নত হয়।

প্রতি কর্মী পিছু বছরে প্রায় ৩৭ হাজার ডলার ব্যয় করছে রিলা। ১২০ জন কর্মীর জন্য এই খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৪৪ লাখ ডলার। একটি ছোট দলের স্টার্টআপের জন্য এটি ব্যয়বহুল বিনিয়োগ। তবে জিমেনেজ ইতোমধ্যেই এর ফল পেতে শুরু করেছেন। তার প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ইঞ্জিনিয়ার বছরে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ডলার রাজস্ব তৈরি করছে। কোম্পানির এই পদ্ধতি কর্মক্ষেত্রে সুবিধা প্রদানের ধারণায় একটি বৃহত্তর পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। জেপি মরগান, গোল্ডম্যান স্যাকস ও মেটার মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজ নিজ কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। জিমেনেজের ভাষ্য, তাদের লক্ষ্য শুধু মানুষকে অফিসে আনা নয়, বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে তারা তাদের জীবনের সেরা কাজ করতে পারে।