শরীরের কোনো স্থানে অস্বাভাবিক গোটা বা ফোলা দেখা দিলে তা উপেক্ষা না করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে সারকোমা নামের বিরল ক্যানসারের ক্ষেত্রে দেরিতে শনাক্ত হলে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। জুলাই মাসটি সারকোমা সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকার ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. আরমান রেজা চৌধুরী জানান, হাড়, মাংসপেশি, চর্বি, রক্তনালি বা স্নায়ুর আশপাশের টিস্যু থেকে এই ক্যানসার উৎপন্ন হতে পারে। হাত-পা, পেটের ভেতর, বুকের ভেতর কিংবা শরীরের যেকোনো জায়গায় এটি দেখা দিতে পারে।

কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন? বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো গোটা বা ফোলা দ্রুত বড় হয়, আকারে পাঁচ সেন্টিমিটারের বেশি হয়, শরীরের গভীরে অবস্থান করে, ব্যথা করে বা বারবার ফিরে আসে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। দীর্ঘদিন ধরে হাড়ের ব্যথা থাকা, চলাফেরায় সমস্যা দেখা দেওয়া বা কোনো আঘাত ছাড়াই হাড় ভেঙে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে নিজে নিজে ওষুধ সেবন, মালিশ করা বা গোটা কেটে ফেলা একেবারেই ঠিক নয়। স্তনে গোটা মানেই যে ক্যানসার, তা নয়, তবে সন্দেহজনক গোটা আগে কেটে ফেলে পরে পরীক্ষা করানো সারকোমার জন্য মারাত্মক ভুল হতে পারে। এতে পরবর্তী অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়। তাই গোটা কাটার আগে সঠিক পরীক্ষা ও পরিকল্পিত বায়োপসি করা অত্যন্ত জরুরি।

রোগনির্ণয়ের পদ্ধতি কী? প্রথমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীকে শারীরিক পরীক্ষা করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী এমআরআই, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে, বোন স্ক্যান বা পেট সিটি স্ক্যান করা হয়। নরম টিস্যু সারকোমা শনাক্তকরণে এমআরআই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে টিউমারের আকার, অবস্থান এবং আশপাশের স্নায়ু, রক্তনালি ও মাংসপেশির সঙ্গে সম্পর্ক বোঝা যায়। ফুসফুসে রোগ ছড়িয়েছে কি না তা দেখতে বুকের সিটি স্ক্যানও করা হয়।

বায়োপসি কেন গুরুত্বপূর্ণ? সারকোমা নিশ্চিত করার প্রধান পরীক্ষা হলো বায়োপসি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইমেজ গাইডেড কোর নিডল বায়োপসি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। শুধু সুচ ঢুকিয়ে পরীক্ষা (এফএসিএস) অনেক সময় যথেষ্ট নয়। বায়োপসির টিস্যু থেকে হিস্টোপ্যাথলজি করা হয়। প্রয়োজনে আইএইচসি, মলিকুলার টেস্ট বা জেনেটিক টেস্টের মাধ্যমে সারকোমার নির্দিষ্ট ধরন ও গ্রেড নির্ণয় করা হয়।

চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে ডা. আরমান রেজা চৌধুরী বলেন, সারকোমার চিকিৎসা একটি সমন্বিত টিমের মাধ্যমে পরিচালনা করা উচিত। সার্জন, রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট ও প্যাথলজিস্ট একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিলে চিকিৎসার ফল ভালো হয়। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারই প্রধান চিকিৎসা। তবে টিউমারের ধরন, আকার ও ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে অস্ত্রোপচারের আগে বা পরে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। রেডিওথেরাপি টিউমার নিয়ন্ত্রণে, অস্ত্রোপচারের ফল ভালো করতে এবং হাত-পায়ের কার্যক্ষমতা রক্ষায় সহায়তা করে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি বা টার্গেট থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।