অনেকেই মনে করেন উকুন শুধু চুলকানি আর সামান্য অস্বস্তির কারণ, কিন্তু এই ক্ষুদ্র পরজীবীকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। মাথার ত্বকে বাস করা অতি ছোট এই প্রাণীটি মূলত রক্ত চুষেই বেঁচে থাকে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যদি প্রচুর পরিমাণে উকুন থাকে, তাহলে রক্তক্ষরণের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে অ্যানিমিয়া বা রক্তশ্বল্পতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশু এবং যারা আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগছেন, তাদের মধ্যে এই ঝুঁকি বেশি। তবে সাধারণ বা অল্প পরিমাণ উকুনে সাধারণত এই ধরনের সমস্যা হয় না।

উকুনের কারণে আরও কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে প্রধান হলো তীব্র চুলকানি ও অ্যালার্জি। উকুনের কামড় এবং লালার কারণে মাথার ত্বকে অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। চুলকানির কারণে যদি অতিরিক্ত আঁচড়ানো হয়, তাহলে ত্বক ফেটে বা ছিলে যেতে পারে। সেখানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটলে ঘা বা ফোঁড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। আর রাতে চুলকানি বেড়ে যাওয়ায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, যা মানসিক ক্লান্তি ও অনিদ্রা সৃষ্টি করতে পারে।

ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বাহক হিসেবে উকুন কতটা ভূমিকা রাখে? সাধারণ মাথার উকুন বড় কোনো মহামারি ছড়ানোর জন্য দায়ী নয়। কিন্তু শরীরের উকুন বা পোশাকে বসবাসকারী উকুন কিছু মারাত্মক রোগ যেমন ট্রেঞ্চ ফিভার, রিল্যাপসিং ফিভার ও টাইফাসের জীবাণু ছড়াতে পারে।

উপায় কী? উকুন থেকে মুক্তি পাওয়া খুব কঠিন কিছু নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ‘পারমেথ্রিন’ বা অন্যান্য উপযুক্ত অ্যান্টিলাইস শ্যাম্পু ও লোশন সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া ভেজা চুলে খুব সরু দাঁতের চিরুনি দিয়ে ভালো করে আঁচড়ে উকুন ও তার ডিমগুলো বের করে আনা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিরোধেও কিছু সতর্কতা জরুরি। যেহেতু উকুন দ্রুত একজনের থেকে আরেকজনে ছড়ায়, তাই ব্যক্তিগত জিনিস যেমন চিরুনি, তোয়ালে, বালিশের কভার, টুপি বা স্কার্ফ অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করে ব্যবহার করা উচিত নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত পোশাক ও বিছানার চাদর গরম পানিতে ধুয়ে ভালো করে রোদে শুকাতে হবে। পরিবারের একজনের উকুন ধরা পড়লে সবার চুল পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে একসঙ্গে চিকিৎসা নেওয়া ভাল। শিশুদের ক্ষেত্রে স্কুলে একে অপরের সঙ্গে মাথা ঠেকিয়ে বসা বা খেলাধুলা না করার বিষয়ে সচেতন করা দরকার। মাথার ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও সামান্য সচেতনতাই উকুনমুক্ত ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারে।