ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সম্প্রতি গুগলের ওপর ১ বিলিয়ন ডলার জরিমানা আরোপ করেছে। অভিযোগ, নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিনে কোম্পানিটি নিজের সেবাগুলোকে অন্য কারও চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘন করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিমানা যৌক্তিক নয়; বরং এটি গুগলের জনপ্রিয়তার প্রকৃত কারণকে উপেক্ষা করে তৈরি করা হয়েছে।
গুগলের সার্চ ইঞ্জিন বিশ্বব্যাপী বহুল ব্যবহৃত। এর পেছনে মূল কারণ হলো গুগলের সেবাগুলোর গুণগত মান অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সার্চ ইঞ্জিনে নিজের সেবা কম গুরুত্ব দিলে গ্রাহকরা অন্যত্র চলে যেতে পারেন—এমন বাস্তবতা উপেক্ষা করে ইইউ জরিমানা আরোপ করেছে বলে মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ইইউ চায় গুগল যেন তৃতীয় পক্ষের পণ্য ও সেবাকে বেশি প্রচার করে। কিন্তু এর ফলে গ্রাহকদের সেরা সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অ্যাপলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতের আইফোনে সিরির পাশাপাশি গুগলের জেমিনি এআই যুক্ত করছে অ্যাপল। কোম্পানিটি স্বীকার করেছে যে সিরি ততটা দক্ষ নয়, তাই বাইরের সেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত। অ্যাপল নিজে কোনো এআই চ্যাটবট তৈরি না করে গুগল, ওপেনএআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবন কাজে লাগানোর কৌশল নিয়েছে। এই উদাহরণ প্রমাণ করে যে বাজারে টিকে থাকতে হলে সেরা পণ্যই অগ্রাধিকার পায়—তা নিজস্ব হোক বা অন্য কারও।
ইইউর জরিমানার অন্তর্নিহিত বার্তা হলো, গুগল নিজের সেবা বেশি গুরুত্ব দিয়ে তৃতীয় পক্ষের বিকাশ আটকে দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, কোনো ব্যবসাই দুর্বল পণ্য দিয়ে ভালো করতে পারে না। গুগলের জেমিনি যেভাবে আইফোনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে, তেমনই গুগলের নিজের সেবাও আরও উন্নত হবে যদি সেগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকে। জরিমানা নয়, বরং তৃতীয় পক্ষের পণ্যের মান বাড়ানোই ইইউর উচিত বলে মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকরা।
তারা আরও বলছেন, ইইউর এই পদক্ষেপ মূলত গুগলকে আত্মঘাতী পথে ঠেলে দিচ্ছে—যেখানে গুগলকে নিজের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে অন্যকে বাড়িয়ে দিতে হবে, অথচ সেই অন্যরা নিজেরাই গুগলের ওপর নির্ভর করে বেড়ে উঠতে চায়। এই জরিমানা ভোক্তাদের জন্যও ক্ষতিকর, কারণ তাদের কাছে সেরা বিকল্প পৌঁছানোর পথে বাধা সৃষ্টি করবে।
সংক্ষেপে, ইইউর ১ বিলিয়ন ডলারের জরিমানা গুগলের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব ও বাজারের বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। অ্যাপলের উদাহরণ স্পষ্ট করে যে, প্রকৃত প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয় জরিমানা দিয়ে নয়, বরং আরও ভালো পণ্য বাজারে এনে।




