গত ২২ জুলাই টেসলার দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয় সংক্রান্ত কনফারেন্স কলের সময় একজন বিশ্লেষক এলন মাস্কের কাছে তার দুই বৃহত্তম উদ্যোগের শেয়ারহোল্ডারদের মনে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নটি উত্থাপন করেন: স্পেসএক্স কি টেসলা কিনতে চাচ্ছে? জবাবে মাস্ক বলেন, 'আমরা আয় কলের সময় কোম্পানি একীভূতকরণ নিয়ে কথা বলতে পারি না। এটি যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হবে।' তবে তার এই উত্তর সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে জল্পনাকে আরও উসকে দেয়। এরপর মাস্ক কার্যকরভাবে এই সম্ভাব্য জোটের সুবিধাগুলোর প্রশংসা করে বলেন, দুটি কোম্পানির মধ্যে বহু ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং 'আরও বেশি ওভারল্যাপ... অনেক ফ্রন্টে' বিদ্যমান। তিনি উল্লেখ করেন যে ডিজিটাল অপটিমাস 'হিউম্যান অফিস ওয়ার্কার' প্রকল্প—যা স্পেসএক্স-টেসলা যৌথ উদ্যোগ—চালিত হচ্ছে গ্রোক এআই চ্যাটবট দ্বারা, যা রকেট প্রতিষ্ঠানের এক্সএআই ইউনিট তৈরি করেছে। এছাড়াও স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা 'আমাদের সব গাড়িতে সংযুক্ত হচ্ছে' বলেও জানান মাস্ক। তার নতুন মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে স্পেসএক্স-টেসলা একীভূতকরণ একটি শক্তিশালী সম্ভাবনা। তাই কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় এই চুক্তি স্পেসএক্সের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আর্থিকভাবে কত বেশি চাপের হয়ে দাঁড়িয়েছে তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
গত ১২ জুন স্পেসএক্সের বহুল আলোচিত আইপিওর পর এর শেয়ারদর প্রস্তাবিত মূল্য ১৩৫ ডলার থেকে বেড়ে ১৬ জুলাই সর্বোচ্চ ২১১ ডলারে পৌঁছায়। সে সময় কোম্পানিটির মূল্যায়ন ছিল ২.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। আন্ডাররাইটিংয়ে অংশ নেওয়া ১৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গোল্ডম্যান শ্যাক্স, মরগান স্ট্যানলি এবং জেপি মরগানের বিশ্লেষকরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এই উত্থান টেকসই হবে এবং গড়ে ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে শেয়ারদর প্রায় ২২৫ ডলারে দাঁড়াবে। তখন মনে হচ্ছিল মাস্ক উচ্চ উড়ন্ত শেয়ারকে 'সস্তা' মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করে টেসলা কিনতে পারবেন। মিড-জুলাই পর্যন্ত পরিসংখ্যান ছিল: স্পেসএক্সের মূল্যায়ন ২.৮ ট্রিলিয়ন ডলার বনাম টেসলার ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলার। শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে দাম না সরলে স্পেসএক্স তার শেয়ারের অতিরিক্ত ৫৭ শতাংশ ইস্যু করে টেসলা কিনতে পারত। এটি ছিল মাস্কের দৃষ্টিতে অতিমূল্যায়িত স্টক ব্যবহার করে মূল্যবান সম্পদ অধিগ্রহণের একটি দুর্দান্ত সুযোগ, যেখানে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অংশীদারিত্ব ধরে রাখতে পারতেন।
কিন্তু তারপর থেকে উভয় স্টকের দরই তীব্রভাবে কমেছে, যা সমীকরণকে আমূল বদলে দিয়েছে। ২৪ জুলাই বিকেল পর্যন্ত টেসলার শেয়ার ৪০৫ ডলার থেকে ৩০৮ ডলারে নেমে এসেছে, অর্থাৎ ২৪ শতাংশ পতন। তবে স্পেসএক্স আরও বড় ধাক্কা খেয়েছে, ২১১ ডলার থেকে ১১৩ ডলারে নেমে ৪৬ শতাংশ পড়ে গেছে। বর্তমানে স্পেসএক্সের বাজার মূলধন ১.৪৯ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে টেসলার ১.২২ ট্রিলিয়ন ডলার। টেসলা কিনতে স্পেসএক্সকে তার শেয়ারের ৮২ শতাংশ ইস্যু করতে হবে। এর ফলে স্পেসএক্সের বিনিয়োগকারীরা সম্মিলিত কোম্পানির মাত্র ৫৫ শতাংশের মালিক হবেন, অর্থাৎ ৪৫ শতাংশ বিপুল ডাইলিউশনের মুখোমুখি হবেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চুক্তিটি স্পেসএক্সের জন্য অনেক কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মাস্কের চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গি একটি গণিত সমস্যার সম্মুখীন। বর্তমান মূল্যায়নে স্পেসএক্স টেসলার জন্য অতিরিক্ত মূল্য দেবে। এত বিপুল শেয়ার ইস্যু করলে এওএল-টাইম ওয়ার্নার মডেলের মতো স্পেসএক্সের শেয়ার ধসে যেতে পারে। স্পেসএক্সের বিনিয়োগকারীরা এখন যে রকেট এবং এআই সম্পদের ১০০ শতাংশের মালিক, তার বিনিময়ে তারা সামান্য অতিরিক্ত আয় এবং বড় নেতিবাচক ফ্রি ক্যাশ ফ্লো পাবেন। টেসলার মালিকরাও লাভবান নাও হতে পারেন, যদি না তারা সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি করে দেন। কিন্তু মাস্কের কলের উচ্ছ্বসিত মন্তব্যে এ বিষয়টি ফুটে ওঠেনি। তার বর্ণিত উজ্জ্বল দিগন্তের প্রতি নজর রাখাই বোধহয় বুদ্ধিমানের কাজ।
এই প্রতিবেদনটি মূলত ফরচুন ডটকম-এ প্রকাশিত।




