ক্যালিফোর্নিয়ায় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদধারীদের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব (প্রপোজিশন ৪০) আগামী নভেম্বরের ব্যালটে ভোটারদের সামনে আসছে। এই উদ্যোগ স্বাস্থ্যখাতের তহবিল বৃদ্ধি করতে চায়, কিন্তু এর বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ এখন অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ নিয়েছে।
এই করের বিরোধিতায় গঠিত বিল্ডিং এ বেটার ক্যালিফোর্নিয়া নামের একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) এখন বিশাল তহবিল গড়ে তুলেছে। আগস্টের ১৪ তারিখের প্রচার অর্থায়ন নথি অনুযায়ী, ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট জন ডোয়ার সম্প্রতি গ্রুপটিকে ৭৫ লাখ ডলার দিয়েছেন। ব্লকচেইন প্রতিষ্ঠান রিপলের এক্সিকিউটিভ চেয়ার ক্রিস লারসেন অতিরিক্ত ১ কোটি ডলার অনুদান করেছেন। ফোর্বসের হিসেবে ডোয়ারের সম্পদ প্রায় ২ হাজার ২৬০ কোটি ডলার এবং লারসেনের প্রায় ১ হাজার ১৪০ কোটি ডলার। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান লুকআউটের সহপ্রতিষ্ঠাতা জন হেরিং ৯ লাখ ৪৬ হাজার ডলার এবং গ্রিনোঅ্যাক্স ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা নীল মেহতা ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার দিয়েছেন। এই অনুদানের ফলে জুনের শেষ দিকে পিএসিটির তহবিল প্রায় ১১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ইঙ্গিত করে যে রাজ্যের ধনীরা এই করকে গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখছেন।
পিএসিটি দুটি পাল্টা প্রস্তাব—প্রপোজিশন ৪১ ও প্রপোজিশন ৪২—সমর্থন করছে। এই দুটির যেকোনো একটি যদি মূল কর প্রস্তাবের চেয়ে বেশি ভোট পায়, তবে ধনকুবের কর অনুমোদিত হলেও তা বাতিল হয়ে যাবে। প্রপোজিশন ৪১ অনুযায়ী ভোটারদের সামনে বিশেষ কর প্রস্তাব উপস্থাপনের আগে রাজ্য অডিটরকে তা পর্যালোচনা করতে হবে। প্রপোজিশন ৪২ সম্পত্তির মালিকানার ওপর ভিত্তি করে নতুন কর আরোপ নিষিদ্ধ করবে, যা সাধারণত বিক্রয়ের সময় করযোগ্য হয়। ইউসি বার্কলের ইনস্টিটিউট অব গভর্নমেন্টাল স্টাডিজের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ভোটাররা বিভক্ত। ৪ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৪৮ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন, ৪১ শতাংশ বিরোধিতা করছেন। ডেমোক্র্যাট ভোটাররা ব্যাপকভাবে পক্ষে থাকলেও, নির্দলীয়দের মাত্র ৫০ শতাংশ একই মত দিয়েছেন; রিপাবলিকানদের ৮০ শতাংশ এর বিপক্ষে। ইনস্টিটিউটের সহ-পরিচালক এরিক শিকলার বলেন, এই লড়াই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হতে পারে এবং বিরোধীরা ঐতিহ্যগত ডেমোক্র্যাটপন্থী ভোটারদের মধ্যে প্রবেশ করতে পারলে ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।
তবে ভোটারদের সচেতনতার ব্যবধান স্পষ্ট। জরিপে ৭২ শতাংশ ভোটার ধনকুবের করের কথা শুনেছেন, কিন্তু এক-তৃতীয়াংশের কম ভোটার পাল্টা দুটি উদ্যোগের অস্তিত্ব জানেন। পিএসিটি এই সুযোগে নভেম্বরের নির্বাচনের আগে জনমত প্রভাবিত করতে ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বিজ্ঞাপন সময় সংরক্ষণ করেছে।
রাজনৈতিক মঞ্চেও বিভক্তি স্পষ্ট। গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ও গভর্নর পদের ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জাভিয়ের বেসেরা এই করের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে চলতি মাসের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়া ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্রস্তাবটি অনুমোদন করে, যা বিরোধীদের জন্য বড় ধাক্কা। বিরোধীদের মধ্যে গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন সবচেয়ে দৃঢ়। বিশ্বের চতুর্থ ধনী ব্যক্তি ব্রিন গত বছরের শেষ দিকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অনেক সম্পদ সরিয়ে নিয়েছেন এবং ইতিমধ্যে ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন; চলতি মাসের শুরুতে আরও ২ কোটি ডলার দিয়েছেন। শার্ক ট্যাঙ্কের প্রাক্তন তারকা মার্ক কিউবানও এর বিরোধিতা করেছেন। সপ্তাহান্তে এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান রো খান্নাকে সতর্ক করে বলেন, কর কার্যকর হলে কেবল অযোগ্য উদ্যোক্তারা রাজ্যে থাকবেন, যা উদ্ভাবনের ক্ষতি করবে। অন্যদিকে ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এই করের পক্ষে জোর প্রচার চালাচ্ছেন। ফেব্রুয়ারিতে তিনি বলেছিলেন, এই কর প্রমাণ করবে যে ধনী আমেরিকানরা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে বসবাস করছেন, যেখানে জনগণের ক্ষমতা আছে। মার্চ মাসে প্রতিনিধি খান্নার সঙ্গে স্যান্ডার্স জাতীয় পর্যায়ে একই ধরনের বিল উত্থাপন করেন—“মেক বিলিয়নেয়ারস পে দেয়ার ফেয়ার শেয়ার অ্যাক্ট”। এই বিলে আমেরিকার ৯৩৮ বিলিয়নেয়ারের ওপর ৫ শতাংশ সম্পদকর, মেডিকেয়ার সম্প্রসারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের “বিগ বিউটিফুল বিল”-এ করা মেডিকেইড কাট বাতিল এবং ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা তার কম আয়ের পরিবারের প্রত্যেককে ৩ হাজার ডলার সরাসরি প্রদানের প্রস্তাব রয়েছে।




