চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের সুপ্তধারা ঝরনায় ঘুরতে গিয়ে বিপাকে পড়েন চার দর্শনার্থী। শনিবার সন্ধ্যায় প্রবল বর্ষণ শুরু হলে পাহাড়ি ঢলের পানিতে আটকে যান তারা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চান ওই চার তরুণ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের একটি দল।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা চট্টগ্রামের বেসরকারি সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁরা হলেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা গ্রামের আকিল (২৩), একই উপজেলার সঞ্জীবনপাড়ার আরাফাতুল ইসলাম (২৩), চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জলদি এলাকার আবরার ফাহিম (২২) এবং লোহাগাড়া উপজেলার পূর্ব কলাবাজার এলাকার আরাফাতুল ইসলাম (২৩) নামে আরেক তরুণ। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ৯৯৯-এ একটি কল পায় ফায়ার সার্ভিস। কলটি পাওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে ইকোপার্কের সড়ক দিয়ে পাহাড়ের দিকে যানবাহন নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পায়ে হেঁটেই প্রায় ৪০ মিনিট পথ পাড়ি দিয়ে ঝরনা এলাকায় পৌঁছান। গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকরা একটি পাহাড়ি ছড়ার অপর পাশে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে প্রবল স্রোতে পাহাড়ি ঢলের পানি ছড়া দিয়ে বইছিল। তখন গাছের সঙ্গে রশি বেঁধে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ছড়া পার হয়ে চারজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়।
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মছিন্দ্র লাল ত্রিপুরা জানান, উদ্ধারকাজ শেষ হতে রাত সাড়ে আটটা বেজে যায়। তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের অবস্থান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো উদ্ধার না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ফায়ার সার্ভিসের এই সফল অভিযানে সবাই সুরক্ষিত রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, বন বিভাগের বারৈয়াঢালা রেঞ্জের অধীন ঝরনাগুলোয় পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই রেঞ্জের বেশির ভাগ ঝরনা মিরসরাই উপজেলায় অবস্থিত। তবে সীতাকুণ্ড এলাকার ঝরনাগুলোতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। ফলে ঝুঁকি জেনেও অনেকে ঢল নামার সময়ও সেখানে ঘুরতে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সীতাকুণ্ডের ঝরনাগুলোতেও প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকায় সম্প্রতি পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। বর্ষা মৌসুমে ঝরনাগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকে আসেন। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস না জেনে বা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া ঝরনায় নামা বিপজ্জনক হতে পারে। ফায়ার সার্ভিসের এই অভিযান স্মরণ করিয়ে দেয় যে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সচেতনতা জরুরি।

