২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে আয়োজিত এক দাতব্য নিলাম থেকে সংগৃহীত অর্থ আয়োজকদের প্রাথমিক প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ক্রিস্টিজ নিলাম প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ‘ওয়ান গোল: অ্যান অকশন টু বেনিফিট দ্য ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’ শিরোনামের এই অনলাইন নিলাম চলে এক সপ্তাহ ধরে। বুধবার তা সমাপ্ত হয়। সর্বমোট ৬ লাখ ৫২ হাজার ৬৩০ মার্কিন ডলার সংগৃহীত হয় এই নিলাম থেকে।
সবচেয়ে দৃষ্টি কাড়া স্মারক দুটি ছিল ফাইনালের বল এবং কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস-এর তারকা সদস্য জিমিনের পরিধান করা শার্ট। প্রতিটি আইটেম ১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে নিলামের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়, যার স্থানীয় মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখেরও বেশি। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গত ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনা পরাজিত হওয়া সেই ম্যাচের বলটি ছিল এটি।
বিটিএস সদস্যদের পরিধান করা বিভিন্ন পোশাক ও আনুষাঙ্গিক দ্রব্য মিলিয়ে আয় হয় প্রায় ৩ লাখ ৩০০ ডলার, যা মোট সংগ্রহের ৪৬ ভাগ। ফাইনালের বিরতী পর্বে ব্যান্ডটি তাদের বিখ্যাত ‘ডিনামাইট’ সংগীতটি পরিবেশন করেছিল। জিনিমের শর্ত ছাড়াও অন্যান্য সদস্যের জিনিসের মধ্যে ভির স্কার্ফ ৪৬ হাজার ২০০ ডলার, জাংকুকের জ্যাকেট ৪৬ হাজার ২০০ ডলার, সুগার প্যান্ট ৩০ হাজার ডলার, জে-হোপের গ্লাভস ২৮ হাজার ৬০০ ডলার, আরএমের বুট ১ হাজার ৮০০ ডলার এবং জিনের বেল্ট ১৬ হাজার ৫০০ ডলারে বিক্রি হয়।
অন্যান্য তারকা স্মারগুলির মধ্যে শাকিরাকে উপহার দেওয়া লিওনেল মেসির অটোগ্রাফ সম্বলিত আর্জেন্টিনার জার্সিটি ৬৬ হাজার ডলারে বিক্রি হয়। আসরের উদ্বোধনী আয়োজনে ম্যাডোনার পরিহিত ও স্বাক্ষরিত গোলরক্ষকের গ্লাভস বিক্রি হয়েছে ৪১ হাজার ৮০০ ডলারে। অন্যদিকে, হাফটাইম শোতে জাস্টিন বিবারের পায়ে থাকা ‘স্কাইলার্ক’ ব্র্যান্ডের স্নিকার্স জোড়া ২৬ হাজার ৪০০ ডলার উঠেছে।
এই পুরো নিলামে মোট ২৪টি দেশের সংগ্রাহক ও অনুরাগীগণ অংশগ্রহণ করেন। নিলাম থেকে প্রাপ্ত পুরো তহবিল ফিফার ‘গ্লোবাল সিটিজেন এননাইজেশন ফান্ড’-এ জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের প্রায় দুশোটি দেশে তৃণমূল স্তরের উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা ও ফুটবল খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা।




