অ্যাপল টিভির বহুল প্রশংসিত সিরিজ 'সেভারেন্স'-এর তৃতীয় মৌসুমের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাহী প্রযোজক ও পরিচালক বেন স্টিলার। দর্শকদের কাছে কাজের জগতের বাস্তবতা ও কল্পনার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে এই সিরিজ। শুক্রবার, ৩১ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফোর্বস ম্যাগাজিনে ব্যাখ্যা করা হয়, কেন অফিসে ফেরার এই গল্পটি আসলে কর্মীদের মনের গভীর অনুভূতির প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে লুমন ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি কোম্পানি, যেখানে কর্মীরা একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের স্মৃতি বিভক্ত করে ফেলেন। অফিসের ভেতরের জীবন ও বাইরের জীবন পুরোপুরি আলাদা হয়ে যায়, যার ফলাফলে তৈরি হয় ভয়াবহ এক বাস্তবতা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিশেষ ধারণাটি করোনাভাইরাস মহামারী পরবর্তী সময়ে অফিসে ফেরার সাংঘর্ষিক মানসিকতাকে গভীরভাবে প্রতিধ্বনিত করেছে। অনেক কর্পোরেট নেতা এখনো টেনে বুঝতে পারছেন না কেন কর্মীরা অফিসে ফিরতে অনিচ্ছুক, আর 'সেভারেন্স' ঠিক সেই প্রশ্নেরই এক দার্শনিক ও নির্মম উত্তর দিয়েছে।
একদিকে রয়েছে বাস্তব জীবনের চাহিদা, অন্যদিকে অফিসের ভেতরকার বিচ্ছিন্নতাবোধ—এই দ্বান্বিকতা দর্শকের মনে গভীর সাড়া ফেলেছে। নেতৃত্বের জন্য পাঠ হিসেবে নিবন্ধে বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রের স্বচ্ছতা, মানবিক সম্পর্ক এবং কর্মীদের মানসিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্ব না দিলে বাস্তবেও 'সেভারেন্স'-এর মতোই এক ধরনের মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে। নেতাদেরকে কেবল উৎপাদনশীলতা নয়, বরং কাজের জায়গাকে একটি অর্থবহ ও স্বাস্থ্যকর অভিজ্ঞতা করে তোলার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বেন স্টিলারের তত্ত্বাবধানে তৈরি এই থ্রিলার-ড্রামাটি ইতিমধ্যে দুটি সফল মৌসুম পেরিয়ে এসেছে। তৃতীয় মৌসুমের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার এই ঘোষণা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সমালোচক ও দর্শক উভয় মহলেই প্রশংসিত এই সিরিজ ভবিষ্যতে কর্পোরেট জগতের আরও কোন অন্ধকারময় দিক উন্মোচন করে, সেটির জন্য এখন থেকেই মুখিয়ে আছে বিশ্বব্যাপী দর্শকসমাজ।




