খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থানে পাহাড় থেকে মাটি সরে পড়ায় আজ শনিবার সকাল থেকে সাজেক ভ্যালির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে যাওয়ার একমাত্র এ পথে যানবাহনের চলাচল বন্ধ থাকায় ভ্রমণকারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি বলে সর্বশেষ তথ্য পাওয়া গেছে।
এই অচলাবস্থার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে সংঘটিত হঠাৎ অতি ভারী বৃষ্টিপাত। উপজেলা প্রশাসন ও দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের রেকর্ড অনুযায়ী, গতকাল রাত বারোটা থেকে ভোর তিনটা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় উপজেলায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে এত অল্প সময়ে এ মাত্রার বৃষ্টিপাত আর ঘটেনি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।
অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে দীঘিনালার মেরুং, কবাখালী, হামতলী ও বেয়োলখালী এলাকার নিচু অঞ্চলগুলো দ্রুত প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বহু স্থানে আমনের খেতও জলের নিচে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-মেরুং সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে পানি ও ধসের মাটি জমে থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জামতলী এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর সকালে উঠে দেখেন ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গত মাসের শুরুতে দেখা দেওয়া বন্যার সময়ও তার ঘরে জল ঢোকেনি; কিন্তু গতকাল রাতের অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাতে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। একই এলাকার আরেক বাসিন্দা অনলেন্দু ত্রিপুরা বলেন, গতকাল রাত পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ছিল এবং আশপাশের পাহাড়ি ছড়াগুলোতেও তেমন পানি ছিল না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ বছর এত তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাত এর আগে কখনো দেখেননি।
দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা ব্যাখ্যা করে বলেন, মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়া একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। তার মতে, চলতি মৌসুমে এত কম সময়ে এমন মাত্রার বৃষ্টিপাত আর রেকর্ড হয়নি, যা স্থানীয় আবহাওয়ার একটি অস্বাভাবিক দিক নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার জানান, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের পাঁচ মাইল ও নয় মাইল এলাকায় সড়ক ধসে পড়েছে। ধসে পড়া অংশটি বেশ বড় হওয়ায় সেখানে যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে মাটি সরানোর কাজ শুরু করা হয়েছে এবং কাজ সম্পন্ন হতে কিছুক্ষণ সময় লাগতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




