সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) মোহা. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অবস্থিত সরকারি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালিকা) তত্ত্বাবধায়ক মো. সেতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আরও অনুসন্ধান চালানো হবে। বর্তমানে তাঁকে অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রটি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং শুধু মেয়েদের জন্য পরিচালিত। ১০ থেকে অনূর্ধ্ব ১৮ বছর বয়সী কিশোরীরা এখানে অবস্থান করে; ১৯ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী কেন্দ্রটিতে ১১৭ জন নিবাসী রয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক, পরিবারের অমতে গোপনে বিয়ে কিংবা পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতার মতো পরিস্থিতিতে আদালতের আদেশে অনেক কিশোরীকে এখানে পাঠানো হয়। শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য হওয়া উচিত আইনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত বা সংস্পর্শে আসা শিশুদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর সুযোগ তৈরি করা; কিন্তু সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো সেই নিরাপত্তাব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
গত বছরের ১০ নভেম্বর ঢাকার বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আয়েশা আক্তার কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। তিনি নিবাসী ও কর্মরত ব্যক্তিদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন। ৮ ডিসেম্বরের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয়জন নিবাসী নিজেদের ও অন্যদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিবাহিত কিশোরীদের স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ও সন্তান না নেওয়ার কারণ জানতে চাইতেন সেতারুজ্জামান। স্বামীকে কেন্দ্রে ডেকে এনে কিশোরীর সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেওয়ার প্রস্তাবও দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্তর না দিলে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দেওয়ার হুমকির কথাও উল্লেখ আছে।
কিছু কিশোরী জানিয়েছেন, ছুটির দিন, সন্ধ্যা কিংবা রাতে তাঁদের একা কক্ষে ডেকে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দেওয়া হতো। এক কিশোরী জানিয়েছেন, একপর্যায়ে তিনি সেতারুজ্জামানের হাতে কামড় দিয়ে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য হন। আরেকজনের অভিযোগ, তাকে বাথরুমে গিয়ে একসঙ্গে পাঁচ মিনিট সময় কাটাতে বলা হয়েছিল। কয়েকজনকে মুঠোফোনে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও দেখতেও বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। আবার ‘মা–বাবা এসেছেন’—এমন মিথ্যা কথা বলে নিজের কক্ষে ডেকে নেওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। কেন্দ্রটি কিছু নিবাসীর আসার কারণ অন্যদের জানিয়ে দেওয়ায় কোনো কোনো কিশোরী অন্য নিবাসীর কাছে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নিবাসীরা গত বছরের ১৫ জুলাই উপপরিচালকের কাছে সেতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগ জেলা ও বিভাগীয় দপ্তর ঘুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে পৌঁছালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অভিযোগ জানানোর পর কোনো কোনো কিশোরীকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়; এমনকি তাঁদের জামিন আটকে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। গত বছরের ৩০ অক্টোবর কেন্দ্রের একটি সমাবেশে সেতারুজ্জামান আবারও নিবাসীদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নিবাসীরা তাঁকে আক্রমণ করেন, তাঁর কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্মরত ব্যক্তিরা তাঁকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে তালা দিয়ে আটকে রাখতে বাধ্য হন। আয়েশা আক্তার এই ঘটনাকে নিবাসীদের ‘দীর্ঘদিনের জমা হওয়া ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
যৌন হয়রানির পাশাপাশি সেতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিবাসীদের পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলিয়ে টাকা নেওয়া এবং এক অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর গর্ভপাতের চেষ্টা করার অভিযোগও উঠে আসে। একাধিক কিশোরীর মতে, কোনো কোনো অভিভাবক তত্ত্বাবধায়কের জন্য বিশেষ খাবার নিয়ে আসতেন এবং তিনি ঘুষ ও উপহারের বিনিময়ে কাউকে বাড়তি সুবিধা দিতেন। যারা টাকা দিতে পারত না, তারা পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো। কর্মরত ব্যক্তিদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে এক অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর গর্ভপাত করানোর জন্য খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সেতারুজ্জামান। তবে পরবর্তী বিভাগীয় শুনানিতে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে কর্মরত ব্যক্তিদের ভাষ্যও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের মতে, কেস ওয়ার্কার ছাড়া সেতারুজ্জামান কিশোরীদের একা কক্ষে ডাকতেন, যা নিয়মবিরুদ্ধ। কোনো কোনো অভিভাবককে বাইরে থেকে খাবার আনার অনুমতিও দিয়েছিলেন তিনি; এমনকি নিবাসীদের তাঁর কক্ষে বসে খাবার খাওয়ার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগও আছে। পরে অন্য নিবাসীরা প্রতিবাদ করলে সবাইকে বাইরে থেকে খাবার আনার অনুমতি দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে নিবাসীদের খাবারে ভাগ বসানো, ভুক্তভোগী শিশুদের আসামিপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া এবং আনসার সদস্যদের মাধ্যমে শিশুদের নিজের কক্ষে ডেকে নেওয়ারও অভিযোগ আছে। কর্মরত কয়েকজনের মতে, সেতারুজ্জামান তাঁদের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক, বিয়ে ও স্বামীকে নিয়ে বিব্রতকর কথা বলতেন এবং বাজে ইঙ্গিত করতেন। নারী কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।
গত বছরের ৮ ডিসেম্বর বিভাগীয় কার্যালয় সেতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির শৃঙ্খলাপরিপন্থী অসদাচরণ ও ফৌজদারি অপরাধের লিখিত অভিযোগ আনে। গত ২৫ জানুয়ারি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তিনি নিবাসীদের সঙ্গে যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেছেন এবং তা অব্যাহত রেখেছেন। গর্ভপাতের অভিযোগ ছাড়াও জামিন হওয়ার পর এক কিশোরীকে নির্ধারিত সময়ের পর আরও ১০ দিন কেন্দ্রে রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এতে উল্লেখ করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশে মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ (৩ খ ও ঘ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতিতে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়; বিধি অনুযায়ী তিনি শুধু খোরপোশ ভাতা পাবেন।
পরে বিভাগীয় মামলা রুজু করে গত ২৬ এপ্রিল তাঁকে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী দেওয়া হয়। তিনি ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করলে ১ জুলাই তাঁর শুনানি হয়। গত ২৭ জুলাই মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শুনানিতে অভিযোগকারী এক নিবাসী জানান যে, তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য সেতারুজ্জামান কোনো ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করেননি; বরং তিনি তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছেন। তবে অন্যদের কাছে তত্ত্বাবধায়কের বাজে আচরণের কথা শুনেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তাই গর্ভপাতের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডাকা সরকারি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের এক নার্স (আউটসোর্সিং) শুনানিতে উপস্থিত হননি; তিনি তখন আর ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন না এবং ফোনও ধরেননি। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এতে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাই বিধি অনুযায়ী সেতারুজ্জামানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়; একই সঙ্গে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। বরখাস্তকালকে কর্মকাল হিসেবে গণ্য এবং বকেয়া বেতন-ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়।
সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের পর গত ২৮ জুলাই সেতারুজ্জামানের সই করা এক চিঠিতে জানানো হয়, তিনি আবার শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রেই দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমাজসেবা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সেতারুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল এবং আবার একই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মরতদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গত বছরের ৩০ অক্টোবর সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনকে আয়ন-ব্যয়নসহ ওই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি গত ৩১ অক্টোবর থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। বোরহান উদ্দিন ১৯ আগস্ট মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংবেদনশীল’ প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
পরে গত ১৩ আগস্ট সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সেতারুজ্জামানকে সমাজসেবা অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে বদলি করা হয়। যে কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্তের পর দ্রুত অন্য জায়গায় বদলি করে সেতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন, সেই আয়েশা আক্তার অব্যাহতির সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছি। তারপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ফয়সালা দিয়েছে। এ নিয়ে আমি আর কী বলব। অব্যাহতির সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হয়নি, তা–ও বিভিন্ন সময় জানিয়েছি।’ পরিদর্শন প্রতিবেদনে সেতারুজ্জামানকে যত দ্রুত সম্ভব অন্য জায়গায় বদলি করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন আয়েশা আক্তার। মেয়েদের জন্য পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে নারী কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। প্রতিবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, সেতারুজ্জামান তাঁকেও ‘বডি শেমিং’ করতে ছাড়েননি। সরেজমিনে গেলে নিবাসীরা তাঁর সম্পর্কে সেতারুজ্জামান যে বাজে কথা বলেছিলেন, তা তাঁকে জানিয়েছিল।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে সেতারুজ্জামান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, গত বছরের ২৮ অক্টোবর অতিরিক্ত পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম কেন্দ্রটি পরিদর্শনে এলে কয়েকজন কর্মচারী গোপনে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরে ওই কর্মচারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিবাসীরা তাঁকে আক্রমণ করেন। তাঁর মতে, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। ১৯ আগস্ট মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি আর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন না। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ। এরপর তিনি আর কোনো বক্তব্য দেননি।
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে হাউসপ্যারেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়েছিল। ২০২০ সাল থেকে পদটি শূন্য ছিল। পরে আদালতের আদেশে ওই ব্যক্তিকেও কেন্দ্রটিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। নিরাপদে থাকার এই প্রতিষ্ঠানে আবারও কিশোরীদের যৌন হয়রানি, হুমকি ও অনিয়মের অভিযোগ আসায় প্রশ্ন উঠেছে—অভিযোগকারী কিশোরীদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা হয়েছে?




