রাজধানীর কালাচাঁদপুর এলাকায় নিজেদের প্রথম আউটলেট চালু করেছে দেশীয় পোশাকের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ‘সরলা’। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনভিত্তিক সেবা দিয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। নাট্যকলা নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মানসুরা স্পৃহা, আর তাঁর স্বামী আমিনুল্লাহ বাবু চারুকলার ভাস্কর্য বিভাগ থেকে পড়াশোনা করে গ্রাফিক ডিজাইনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

২০১৬ সালে একটি শাড়িতে নিজ হাতে নকশা এঁকে স্ত্রীকে উপহার দেন আমিনুল্লাহ। পারিবারিক অনুষ্ঠানে সেই শাড়ি পরে বের হলে পরিচিতজনদের নজর কাড়ে। সেদিনই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছয়টি শাড়ির অর্ডার পান তাঁরা, আর সেখান থেকেই ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইনে ‘সরলা’র পথচলা শুরু।

শাড়ির বাইরে নিত্যব্যবহার্য পোশাক ও আনুষঙ্গিক পণ্যে নতুনত্ব আনার উদ্যোগ নেন মানসুরা। রিকশাচিত্র আঁকা সানগ্লাস ও কনভার্স জুতা তৈরি করে তরুণ প্রজন্মের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ‘সরলা’। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক রক ব্যান্ড ‘স্করপিয়নস’ ও দেশীয় ব্যান্ড ‘চিরকুট’-এর সদস্যদের কাছেও পৌঁছে গেছে সরলার আঁকা সানগ্লাস। দেশীয় মোটিফকে ফ্যাশন অনুষঙ্গে রূপান্তরের এই ধারা ব্যবসায়িক সাফল্যও এনে দেয়।

তবে ২০২০ সালে করোনা মহামারিতে বড় ধাক্কা খায় প্রতিষ্ঠানটি। পয়লা বৈশাখের তিনটি বড় মেলার জন্য প্রস্তুত করা প্রায় ১০ লাখ টাকার হস্তশিল্প পণ্য অবিক্রীত থেকে বাক্সবন্দী অবস্থায় নষ্ট হয়ে যায়। সেই স্থবির সময়ে ব্যবসা গুটিয়ে না নিয়ে মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেন মানসুরা। ঘরে পরার উপযোগী সুতি পায়জামা ও কাপড়ের তৈরি জামদানি মাস্ক তৈরি করে শুরু করেন; অল্প সময়েই পণ্যগুলো ব্যাপক সাড়া ফেলে।

করোনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট ও গুজরাটি সেলাইয়ের সমন্বয়ে পোশাকের নকশায় বৈচিত্র্য আনে ‘সরলা’। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে আরামদায়ক ‘ফ্লেক্সি ব্লাউজ’ তৈরির মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে সরলার কাজের পরিধি আরও বেড়ে যায়।

বর্তমানে এই উদ্যোগে কাটিং মাস্টার, দরজি, সূচিকর্মশিল্পীসহ প্রায় ২০ জন নিয়মিত কাজ করছেন। কালাচাঁদপুরের স্থানীয় নারী কারিগরেরা এখানে কাজ করে নিজেদের সংসার চালাচ্ছেন। বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা ও অনলাইন সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য একটি দেশীয় পোশাকের ব্র্যান্ড হিসেবে ‘সরলা’কে প্রতিষ্ঠিত করাই এখন মানসুরার লক্ষ্য।