ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের স্বরাজপুর গ্রামে একটি শক্তিশালী টর্নেডো আঘাত হেনে চরম ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে এই টর্নেডো সংঘটিত হয়, যা স্থায়ী হয় মাত্র ৪০ সেকেন্ড। তবু এর তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে পুরো গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে যায়। প্রবল বাতাসে উপড়ে পড়ে শতাধিক গাছ, ভেঙে যায় চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি। অন্তত ৩৫টি বাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি আরও অনেক বাড়ির চাল উড়ে যায় ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সকাল থেকে এলাকায় ঝিরিঝিরি বৃষ্টি চলছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে টর্নেডোর সূত্রপাত হয়। সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন বলেন, তাঁর দীর্ঘ জীবনে এমন ধ্বংসাত্মক ঝড় কখনও দেখেননি। সবকিছু উড়ে যেতে দেখে তিনি ও তাঁর পরিবার কোনোমতে প্রাণরক্ষা করেছেন। ঘরের চালা উড়ে যাওয়া, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়া এবং সর্বত্র ধ্বংসের দৃশ্য তাকে অভিভূত করে। তিনি আবেগঘন ভাষায় বলেন, এটি যেন কিয়ামতের মুহূর্ত। আরেক ক্ষতিগ্রস্থ জয়নাল আবেদিনের ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তিনি জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ও ধারদেনা করে ঘর তৈরি করেছিলেন। এক নিমেষে সব শেষ। বৃষ্টির মধ্যে পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন সেই ভাবনায় তিনি গভীর উদ্বিগ্ন। বিকেল নাগাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের ধানখেত ও মেঠোপথ জুড়ে ছড়িয়ে আছে ভাঙা টিন, উপড়ে পড়া গাছ ও বিদ্যুতের তার। অনেক জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো ভেঙে মাটিতে পড়ে রয়েছে। মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন দোলন তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সরকারি সহায়তার বিষয়ে অবহিত করেন। এদিকে, সোনাগাজী উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক মোস্তফা কামাল জানান, টর্নেডোতে কিছু বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাঁর দলের কর্মচারীরা মেরামত কাজ শুরু করেছেন। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।