সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে একটি নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ভার্চুয়াল শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলাটি রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম গত ২ জুলাই খায়রুল হককে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করেন। প্রথমে ৬ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করা হলেও মামলার নথি উপস্থাপনে দেরির কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরে আজকের জন্য শুনানি নির্ধারিত হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মহাখালীর সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিচ্ছিলেন। তাঁরা শাহবাগের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় হামলা, গুলিবর্ষণ ও ককটেল-হাতবোমা নিক্ষেপের শিকার হন। এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। উজ্জ্বল মিয়া বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন।

খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়।

গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলের কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় তাঁর গ্রেপ্তার দেখানো হতে থাকে। পৃথক আটটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর বনানী থানার এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। আদালত আজ সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।