চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত রেলপথ টানা ভারী বর্ষণে দুদিন ধরে পানির নিচে তলিয়ে আছে। বুধবার সকাল পৌনে ১০টায় রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গ্যাংকারযোগে ওই এলাকা পরিদর্শনে যান। ষোলোশহর স্টেশন পার হয়ে মুরাদপুর ও সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রেলপথ আর পাশের খালের পানি মিশে গেছে। স্রোত বয়ে যাচ্ছে রেললাইনের ওপর দিয়ে। শমসেরপাড়ায় গ্যাংকার থেকে নেমে হেঁটে ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র। রেললাইনে হাঁটুর চেয়েও বেশি পানি জমে থাকতে দেখা যায়।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের এই সমস্যাজনিত অংশটি ভবিষ্যতে পাঁচ ফুট উঁচু করে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইনে এই কাজ সম্পাদিত হবে। ইতিমধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রেলপথ উঁচু করার পর তিন ফুট পানি জমলেও রেল চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।
চট্টগ্রামে গত ৪৫ বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৪৫ বছর আগে এ রকম বৃষ্টি হয়েছিল। আমরা এখন রেকর্ড রাখছি কতটুকু পানি জমছে— কোথাও দুই ফুট, কোথাও তিন ফুট। ভবিষ্যতে যাতে রেললাইন আর ডুবে না যায় সেজন্য উঁচু করার পরিকল্পনা।’ রেলপথ নির্মাণে কোনো ত্রুটি নেই দাবি করে তিনি বলেন, এত বেশি বৃষ্টিতে কোনো লাইনই টিকতে পারে না।
বৈরী আবহাওয়া ও টানা বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন (দুই জোড়া চট্টগ্রাম থেকে ও দুই জোড়া ঢাকা থেকে) কক্সবাজারে চলাচল করে। বুধবারও সেসব ট্রেন বাতিল রাখা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা টিকিট কেটেও যেতে পারছেন না, তাদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




