বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাস পেরোতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক পুনর্বিন্যাসের ঘোষণা এসেছে। সরকারের এক নীতিনির্ধারক মঙ্গলবার প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের আওতায় পররাষ্ট্রসচিব পদে নতুন মুখ আসছেন, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি কূটনৈতিক মিশনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক ও লন্ডনে নিয়োগ হবে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায়।
সরকার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দীন নোমান চৌধুরীকে পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার স্থলে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক মহাসচিব আইরিন খান। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগেই তিনি দায়িত্ব নিতে পারেন বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে দিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে ভারতে দায়িত্ব পালনরত এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে স্থানান্তর করা হবে। জেনেভার বর্তমান প্রতিনিধি নাহিদা সোবহানকে ঢাকায় ফিরিয়ে এনে ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর পদে বসানো হচ্ছে।
লন্ডনে হাইকমিশনারের পদটি গত মার্চ থেকে খালি রয়েছে। সেখানে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে সরকার ফরেন সার্ভিস একাডেমির বর্তমান রেক্টর ও জাতিসংঘে সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনে উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান (এপেলো) নিয়োগ পেতে পারেন।
সরকার আরও কয়েকটি দেশে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (আন্ত সরকারি সংস্থাসমূহ) এম ফরহাদুল ইসলামকে মরিশাসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হচ্ছে, যিনি জকি আহাদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। জকি আহাদকে ইতিমধ্যে ডেনমার্কে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আয়ারল্যান্ডে নুর-ই আলম, আর্জেন্টিনায় এ এফ এম জাহিদুল ইসলাম এবং পর্তুগালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সিঙ্গাপুর ও ইরানে রাষ্ট্রদূতের পদ খালি রয়েছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএনপি সরকার এখন পর্যন্ত তিনটি দেশে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া চার রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে তিনজন দেশে ফিরলেও মালদ্বীপের হাইকমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে এখনো কর্মস্থলে রয়ে গেছেন। সূত্র জানিয়েছে, নতুন নিয়োগগুলো কার্যকর করার সময়সূচি আইরিন খানের দায়িত্ব গ্রহণের তারিখের সঙ্গে সমন্বয় করা হতে পারে।



