আগামীকাল সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন নিয়ে দায়ের করা আপিলগুলোর রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ আজ তৃতীয় দিনের শুনানি শেষে এই দিন চূড়ান্ত করেন। গত সোমবার ও মঙ্গলবারও বিষয়টির শুনানি চলে।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনী আইন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করে। ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট বাদ দেওয়া সংক্রান্ত আইনের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদকেও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল বলে অভিহিত করা হয়। এই আইনটি ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংসদে পাস হয়েছিল। এতে সর্বমোট ৫৪টি বিষয়ে সংশোধন আনা হয়।

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের পাশাপাশি জাতির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সংবিধানের মূল চার নীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—পুনঃস্থাপন করা হয়। সংবিধানে সাতই মার্চের ভাষণ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযোজন করা হয় এবং রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক লিভ টু আপিল দায়ের হয়। এগুলো দাখিল করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি, নওগাঁর মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। জামায়াতের আপিলের পাশাপাশি হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির একটি আবেদনও শুনানির তালিকায় স্থান পায়। আপিল বিভাগ গত বছরের ১৩ নভেম্বর এসব আবেদন মঞ্জুর করে এবং পরবর্তীতে পৃথক তিনটি আপিল দায়ের করা হয়।

আজকের শুনানিতে সুজনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া কথা বলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান ও রিদুয়ানুল করিম। জামায়াতের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক এবং অপর আপিলকারীর পক্ষে আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ মামলায় ইন্টারভেনার হিসেবে যুক্ত একটি সংগঠনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ও আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত বছর ৩ ডিসেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দিনে আপিলগুলোর শুনানি চলে। সর্বশেষ গত ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের বেঞ্চ শুনানি চলতি বছরের ৫ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখে। পরে গত ৮ মার্চ আপিল বিভাগ আপিলগুলো আংশিক শুনানি হয়েছে বলে গণ্য না করার নির্দেশ দেয়। অতঃপর চলতি বছরের জুন মাসে মামলাগুলো আবার কার্যতালিকায় উঠলে ২৩ জুন শুনানির দিন ধার্য হয়। তা আজকের শুনানির মাধ্যমে শেষ হয়ে আগামীকাল রায় ঘোষণার পথ তৈরি হলো।