১৯৮৮ সালে আইন স্কুল থেকে স্নাতক হয়ে ৮০ হাজার ডলারের ঋণ নিয়ে বেরিয়েছিলেন ভার্না এল. উইলিয়ামস। তার ইচ্ছা ছিল নাগরিক অধিকারের কাজে যুক্ত হবেন। কিন্তু সেই ঋণের চাপ তাকে বাধ্য করেছিল বেসরকারি খাতে চাকরি নিতে। বছরের পর বছর কিস্তি পরিশোধ করে এবং কৌশলী আর্থিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পরে তিনি তার পছন্দের পেশায় ফিরতে পেরেছিলেন। চার দশক আগের সেই সিদ্ধান্ত — স্বপ্নের চাকরি নাকি ঋণমুক্ত জীবন — আজও শিক্ষার্থীদের সামনে একই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, বরং এখন পরিস্থিতি আরও কঠিন।
বর্তমানে প্রতি পাঁচজন ঋণগ্রহীতার মধ্যে একজন খেলাপি। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ৯ মাসের বেশি কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে থাকা ৯৫ লাখ মানুষ এখন ঋণখেলাপি — যা গত বছরের ৫৩ লাখ থেকে প্রায় দ্বিগুণ। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বাতিল করেছে SAVE পরিশোধ পরিকল্পনা। পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস লোন ফরগিভনেস (PSLF) কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে, যা হাজার হাজার মানুষকে জনহিতৈষী পেশায় টিকে থাকতে সহায়তা করে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের জনসেবা কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার ক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
জনসেবায় নিয়োগ ও ধরে রাখার প্রধান হাতিয়ার হলো PSLF। শিক্ষকতা, নার্সিং, জননিরাপত্তা এবং জনস্বার্থ আইনি পেশাকে আর্থিকভাবে টেকসই করার মাধ্যমে এই কর্মসূচি নিশ্চিত করে যে, উচ্চশিক্ষার ব্যয় যেন জনসেবায় আগ্রহীদের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়। আইনি খাতে এই সংকটের প্রভাব প্রতিদিনই চোখে পড়ে। যাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হতে চলেছে, যারা অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন, যারা নির্যাতনের শিকার হয়ে সুরক্ষা চান — তাদের অনেককেই জটিল আইনি ব্যবস্থার মধ্যে একা লড়তে হয়, কারণ আইনি সহায়তার খরচ বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলস্বরূপ, একটি বিচার ব্যবধানে (justice gap) ভুগছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। লিগ্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের আমেরিকানদের ৯২ শতাংশ নাগরিক আইনি সমস্যাই পর্যাপ্ত বা কোনো আইনি সহায়তা পায় না। ২৭টি রাজ্যে ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ২০০ শতাংশের নিচে বসবাসকারী প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য একজনও নাগরিক আইনি সহায়তা আইনজীবী নেই।
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মেরিল্যান্ড পর্যন্ত আইনি সহায়তা সংস্থাগুলো আইনজীবী নিয়োগ ও ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, কারণ জনসেবার বেতন বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে না। জনস্বার্থ আইনজীবীরা এই ব্যবধান পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তারা মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেন, সমস্যা গুরুতর হওয়ার আগেই সমাধানের পথ দেখান। কিন্তু জনস্বার্থ আইনে ক্যারিয়ার যখন আর্থিকভাবে টেকসই হচ্ছে না, তখন প্রয়োজনীয় আইনজীবী নিয়োগ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণত এই আইনজীবীদের স্নাতক শেষে ১.৫ লাখ ডলারের বেশি ঋণ থাকে, অথচ তাদের শুরুর বেতন তার এক-তৃতীয়াংশেরও কম। সমগ্র শিক্ষার্থী ঋণ সংকটের এটি একটি উদাহরণ মাত্র। স্নাতক পর্যায়ে প্রতি শিক্ষার্থীর গড় ঋণ ৩৫ হাজার ২১০ ডলার, আর ১০ লাখেরও বেশি আমেরিকান ২ লাখ ডলারের বেশি ঋণ বহন করছে।
কার্যকর পরিশোধের সুযোগ না থাকলে আমার মতো অনেক তরুণ আইনজীবী জনসেবা বেছে নেওয়ার সাহসই পাবে না। জনসেবায় আগ্রহী আইনজীবী কমলে আইনি সহায়তাও কমবে, ফলে সাধারণ মানুষের মনে আরও গভীর হবে — বিচারব্যবস্থা ন্যায্য নয়, ন্যায়বিচার নাগালের বাইরে — এই বিশ্বাস। সাম্প্রতিক এক জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ আইনি ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশ করেছে, আর ৬১ শতাংশ মনে করে আয়ের ভিত্তিতে আদালতের রায় প্রভাবিত হয়। দেশে এখন আগের চেয়ে বেশি ন্যায়বিচারের প্রয়োজন। PSLF-এর মাধ্যমে জনসেবায় আগ্রহীরা আস্থা পায় যে, সরকার তাদের অবদানকে মূল্য দেয় এবং তাদের পেশায় সহায়তার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নেয়। এই নীতি শুধু আইনি পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া শিক্ষক, রোগীদের সেবা দেওয়া নার্স, দুর্বল পরিবারকে রক্ষা করা সমাজকর্মী — সবাই এই কর্মসূচির মাধ্যমে উপকৃত হয়। সব পেশার লক্ষ্য ভিন্ন হলেও একটি অভিন্ন বাস্তবতা আছে — জনসেবা মানে উচ্চ বেতনের চেয়ে উদ্দেশ্যকে প্রাধান্য দেওয়া। এই পছন্দ তখনই সম্ভব, যখন সেই পেশার সঙ্গে জড়িত অঙ্গীকারগুলোর ওপর আস্থা রাখা যায়।
নীতি নির্ধারকদের মনে রাখা উচিত, আজকের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে আগামীকাল কে জনসেবা বেছে নেবে। ভার্না এল. উইলিয়ামস ইকুয়াল জাস্টিস ওয়ার্কসের প্রধান নির্বাহী, যা জনস্বার্থ আইনজীবীদের পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তুলতে কাজ করে।




