দেশের আবাসন ও নির্মাণ খাতে বর্ষাকাল একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেয়। টানা বৃষ্টি ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে সাধারণ সিমেন্টের হাইড্রেশন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যার ফলে কংক্রিট বা প্লাস্টার ঠিকমতো শুকাতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে ভেতরে জমে থাকা জলকণা পরবর্তী সময়ে প্লাস্টার খসে পড়া, দেয়াল ড্যাম্প হওয়া এবং রডে মরিচা ধরার মতো জটিল ক্ষতি ডেকে আনে। এই প্রতিকূলতা মোকাবিলায় এখন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির মালিকদের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে পানি ও আর্দ্রতারোধী আধুনিক সিমেন্ট।

বাজারে সম্প্রতি উৎকর্ষের স্মারক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসির ‘হোলসিম ওয়াটার প্রোটেক্ট’। বাংলাদেশের প্রথম ড্যাম্প প্রতিরোধী সিমেন্ট হিসেবে এটি নির্মাণশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এর বিশেষ ‘ওয়াটার রিপেলেন্ট ফর্মুলা’ কংক্রিটের অতি ছোট ছিদ্র বন্ধ করে বাইরের পানি ও ক্ষতিকর কেমিক্যালকে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ফলে পুরো ভবন ওয়াটারপ্রুফ হয়ে ওঠে এবং রড থাকে পুরোপুরি সুরক্ষিত।

সাধারণ সিমেন্টের তুলনায় এই সিমেন্টের শক্তিমত্তা অনেক বেশি। সমন্বিত প্রযুক্তির ফর্মুলার কারণে মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে এটি আনুমানিক ৫,৬০০ পিএসআইয়ের অধিক শক্তি অর্জন করে, যা ভবনকে বহুগুণ মজবুত ও টেকসই করে তোলে। বাড়ির যে অংশগুলো সরাসরি পানি ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে আসে, সেখানে ‘ওয়াটার প্রোটেক্ট’ ব্যবহার সবচেয়ে উপযোগী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে ভিত্তি ও নিচতলায় পাইল ফাউন্ডেশন এবং রিটেইনিং ওয়াল, ওপরের অংশে ছাদ ঢালাই ও বাইরের প্লাস্টারিং, পানিপ্রবাহের স্থান যেমন ওয়াটার ট্যাংক, ওয়াটার রিটেইনিং স্ট্রাকচার ও সুইমিংপুল এবং বাড়ির ভেতরে বাথরুম ও রান্নাঘর।

বাড়ি সাধারণত জীবনে একবারই তৈরি করা হয়। তাই বর্ষার প্রতিকূল আবহাওয়া বা সময়ের প্রভাবে স্বপ্নের ঠিকানা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের এই আধুনিক প্রযুক্তির সিমেন্ট ব্যবহার করে বৃষ্টির দিনেও নিশ্চিন্ত থাকা সম্ভব, যা বছরের পর বছর বাড়িকে শুষ্ক, আকর্ষণীয় ও মজবুত রাখতে সহায়তা করে।